চলে গেলেন কিংবদন্তি ফুটবলার এ কে এম নওশেরুজ্জামান

স্পোর্টস লাইফ, ডেস্কএকেএম নওশেরুজ্জামান দেশের ফুটবলের এই কিংবদন্তি আর নেই। করোনা নিয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে বেশ কয়েক দিন ধরেই লড়তে ছিলেন সাবেক এই ফুটবল তারকা। আর ফিরে আসতে পারলেন না। ৭২ বছর বয়সে পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। গত রাত ২১সেপ্টেম্বর সাড়ে আটটার দিকে তিনি মারা যান…

নওশেরুজ্জামানকে মনে রাখতে হবে তাঁর বহুমুখী প্রতিভার জন্য। পড়াশোনায় ছিলেন তুখোড়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন জীববিজ্ঞানে। তাঁর ছোট ভাই শরিফুজ্জামান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরই পদার্থ বিদ্যার ছাত্র ছিলেন। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় ফুটবল দলে ছিলেন দুই ভাইই। তাঁরা মালয়েশিয়ার বিখ্যাত টুর্নামেন্ট মারদেকায় খেলেছিলেন।

বাংলাদেশ জাতীয় দলে তাঁরাই প্রথম মাস্টার্স ডিগ্রিধারী ফুটবলার সহোদর। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে প্রথম ডাকসু নির্বাচনে অ্যাথলেটিকস সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছিলেন নওশের। তবে শেষ পর্যন্ত জানতে পারেননি জিতেছেন না হেরেছেন! ওই নির্বাচনের ভোট গণনা পণ্ড হয়ে গিয়েছিল।

স্বাধীনতার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্লু নওশের ক্লাব পর্যায়ে ফুটবল-ক্রিকেট দুটোই খেলেছেন। তবে সব ছাপিয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সদস্য হিসেবে। এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ১০০ টাকায় নিজের প্রিয় ঘড়িটি বিক্রি করে ১৯৭১ সালে তিনি ভারতে ছুটে যান স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলে যোগ দিতে।

স্বাধীন বাংলা দলে যাওয়ার অনেক আগেই ১৯৬৭ সালে ঢাকার ফুটবলে তাঁর শুরু বাংলাদেশ রেলওয়ের জার্সিতে। ’৬৮-তে ওয়ারী, ’৬৯-এ ফায়ার সার্ভিস, ’৭০-এ ভিক্টোরিয়ায় খেলেন। ’৭২-’৭৪-এ ওয়াপদা, ’৭৫-’৭৭-এ মোহামেডান। ’৭৮-’৮০ সালে ঢাকা ওয়ান্ডারার্সে খেলে ফুটবল জীবনের ইতি। জাতীয় দলে খেলেন ১৯৭৩-’৭৬ সাল অবধি। ফুটবল অধিনায়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সম্মিলিত বিশ্ববিদ্যালয় দলের। ক্রিকেটে ৩ বছর ভিক্টোরিয়া ও ৫ বছর কলাবাগানের অধিনায়ক ছিলেন তিনি।

তিনি স্ত্রী, ১ ছেলে, ১ মেয়ে ও নাতি নাতনীসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। মঙ্গলবার (২২সেপ্টেমবর) সকাল ১০টায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে মরহুমের ১ম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। মুন্সিগঞ্জে ২য় নামাজে জানাজা শেষে চাঁদপুরে গ্রামের বাড়ীতে মরহুমকে দাফন করা হয়। 

কে এম নওশেরুজ্জামান এর মৃত্যুতে বাফুফের সভাপতি কাজী মোঃ সালাহউদ্দিন, সিনিয়র সহ-সভাপতি, সহ-সভাপতিবৃন্দ, নির্বাহী কমিটির সকল সদস্যবৃন্দ, সাধারণ সম্পাদকসহ সকল স্ট্যান্ডিং কমিটি, বাফুফের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ আন্তরিক শোক প্রকাশ এবং তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছে। 

Print Friendly, PDF & Email