চালকের আসনে বাংলাদেশ

স্পোর্টস লাইফ, ডেস্কঅতীতের আট ইনিংসে স্কোর বোর্ডে ছিলো রান খরা। অথচ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টেই রানের স্রোত। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে প্রায় দুই দিন রাজত্ব করে ৭ উইকেটে ৫২২ রানে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। এমন বিশাল পাহাড় আর প্রায় দুটি দিন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আধিপত্য বিস্তারে ঢাকা টেস্টের লাগাম এখন বাংলাদেশের হাতে।

জিম্বাবুয়ে দ্বিতীয় দিনের শেষ দিকে ২৫ রান তুলতেই হারিয়েছে একটি উইকেট। তারা পিছিয়ে ৪৯৭ রানে।

৫২২ রানে ইনিংস ঘোষণার পর বল হাতেও শুরুতে জিম্বাবুয়েকে চাপে ফেলে দেয় বাংলাদেশ। মোস্তাফিজুর রহমানের ওভারে তৃতীয় বলে লেগ বিফোরের আবেদন। অনফিল্ড আম্পায়ার নাকচ করে দিয়েছিলেন, পরে রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। রিভিউর পর আম্পায়ার্স কল হলে বেঁচে যান হ্যামিল্টন মাসাকাদজা। চতুর্থ ওভারে অভিষেক উইকেট পাওয়ার সুযোগ তৈরি করেছিলেন খালেদ আহমেদ। মাসাকাদজার ব্যাট থেকে আউট সাইড এজ হয়ে বল স্লিপে গেলেও দ্বিতীয় স্লিপে থাকা আরিফুল ডাইভ দিয়েও তা লুফে নিতে পারেননি।

১৪ ওভার পর্যন্ত প্রতিরোধ দিয়ে খেলেও তাইজুলের ১৫তম ওভারে আর পারেননি জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক। আগের টেস্টে ঘূর্ণি বলে দাপট দেখানো তাইজুলের স্পিনে আউট সাইড এজ হয়ে ধরা পড়েন প্রথম স্লিপে থাকা মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে। তার আগের ইতিহাস অবশ্য মুশফিক ময়। প্রথম দিন মুমিনুল ডাবল সেঞ্চুরির কাছে গিয়ে ১৬১ রানে ফিরেছেন। তবে মুশফিক ছিলেন নিজের লক্ষ্যে অবিচল। ২০১৩ সালের পর দেখা পেলেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ডাবলসেঞ্চুরির।

ইতিহাস গড়া এই ইনিংসে রেকর্ড বুকেও নাম লেখালেন সবার আগে। যার এই বছরে টেস্টে কোনও সেঞ্চুরি ছিলো না সেই ব্যক্তিটিই গড়লেন বছরের প্রথম টেস্ট ডাবল সেঞ্চুরি! শুধু কি তাই? রেকর্ডের ডালি সাজিয়েছেন একের পর এক। টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান হিসেবে দুটি ডাবল সেঞ্চুরির কীর্তি গড়েছেন মুশফিক। একই সঙ্গে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবেও দুটি ডাবল সেঞ্চুরির মালিক তিনি।

ইতিহাস গড়ার দিনে আরও একটি যুক্ত হয়েছে ইনিংস ঘোষণার আগে। বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংসটা এখন মুশফিকের। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২১৭ রান ছিলো সাকিব আল হাসানের। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মুশফিকের ২১৯ রান এখন সর্বোচ্চ। তার অপরাজিত এই ইনিংসের পরেই পাহাড় গড়ে ৭ উইকেটে ৫২২ রানে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। অপর প্রান্তে মেহেদী হাসান মিরাজও ছিলেন তার এই ইতিহাসের সঙ্গী। অপরাজিত ছিলেন ৬৮ রানে। অষ্টম উইকেটে এই জুটিতে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ ১৪৪ রান। দিনের আলোচিত জুটিও এটি।

বলতে গেলে প্রথম সেশনে ধীর-স্থির থাকলেও দ্বিতীয় সেশনে দ্রুত রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। মাহমুদউল্লাহ ও আরিফুল দায়িত্বজ্ঞানহীন ভাবে ফিরলে মুশফিক ও মিরাজের জুটিই গড়ে দেয় বাকি পুঁজি। দ্বিতীয় সেশন পর তৃতীয় সেশনেও ছিলো এই আগ্রাসন। তারপর নিরাপদ দূরত্বে থেকে এই সেশনের শুরুতে ইনিংস ঘোষণা করেন মাহমুদউল্লাহ। জিম্বাবুয়ের পক্ষে ৭১ রানে ৫ উইকেট নিয়ে সফল বোলার কাইল জার্ভিস। একটি করে নিয়েছেন টেন্ডাই চাতারা ও ডোনাল্ড তিরিপানো। 

Print Friendly, PDF & Email