চেলসিকে হারিয়ে শিরোপার আরও কাছে ম্যানসিটি

স্পোর্টস লাইফ, ডেস্ক : আলাদীনের চেরাগ হাতেও পাওয়ার মত এক মৌসুম কাটাচ্ছে ম্যানচেস্টার সিটি। কী প্রিমিয়ার লিগ, কী চ্যাম্পিয়ন্স লিগ! সবখানেই সিটিজেনদের দাপট চোখে পড়ার মতো। ইতোমধ্যে কারাবাও লিগ কাপ জিতে নিয়েছে। এবার প্রিমিয়ার লিগও জেতার পথে। প্রিমিয়ার লিগে কেবল লিভারপুলের কাছে হার ছাড়া কোনদলই পাত্তা পায়নি গার্দিওলার ম্যানসিটির সামনে। এবার চেলসিকে ঘরের মাঠে ১-০ গোলে হারালো ব্লু সিটিজেনরা।

ঘরের মাঠ ইতিহাদে প্রথম থেকেই আক্রমণ করে খেলতে থাকে ম্যান সিটি। বল দখলে নিয়ে এগুয়েরো, সানে এবং ডি ব্রুয়েনদের শক্ত হাতে প্রতিহত করেন চেলসি গোলকিপার কর্তোয়া। ২১ মিনিটে বার্নারদো সিলভার শট গোলপোস্টের উপর দিয়ে চলে যায়। ২৮ মিনিটে ডি ব্রুয়েনের ফ্রি কিক থেকে বল পেয়ে সানে জোড়ালো শট করলে কর্তোয়া ঠেকিয়ে দেন। প্রথমার্ধে ম্যানসিটির গোলমুখে একটি শটও নিতে পারেনি চেলসির খেলোয়াড়রা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই গোল করে দলকে এগিয়ে দেন বার্নারদো সিলভা। এ গোলের সুবাদে তিন বড় প্রতিপক্ষ আর্সেনাল, চেলসি এবং লিভারপুল তিন দলের বিপক্ষে ২০১৮ সালে গোল করার কৃতিত্ব দেখালেন সিলভা। ডেভিড সিলভার সাথে ওয়ান টু ওয়ান পাসে খেলে গোল করে সিটিকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন তিনি। এরপর চেলসি ম্যাচে ফেরার দু একটি চেষ্টা করলেও কাজে লাগাতে পারেনি হাজার্ড-উইলিয়ানরা।

পুরো ম্যাচেই চেলসির খেলোয়াড়রা ছিল নিষ্প্রভ। ম্যানসিটির ৭১% বল পজিশনের বিপরীতে চেলসির ছিল মাত্র ২৯%। পুরো ম্যাচে সিটিজেনদের পাসের সংখ্যা ছিল ৯০২টি এ থেকেই বোঝা যায় বল নিজেদের দখলে নেওয়ার থেকে বলের পেছনেই বেশি ছুটেছে অ্যান্থনিও কন্তের দল। যেখানে সিটি গোলমুখে ১৩টি শট নিয়েছে সেখানে চেলসি মাত্র ৩টি শট নিতে পেরেছে।

এদিকে এই ম্যাচে ইল্কায় গুন্দোগান একটি ব্যক্তিগত রেকর্ডও করে ফেলেছেন। ফার্নান্দিনহোর ইনজুরির দরুন একাদশে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ড পজিশনে খেলতে নেমেই পুরো ম্যাচে ১৮০বার বলে টাচ করেছেন এই জার্মান মিডফিল্ডার। যা প্রিমিয়ার লিগে এক ম্যাচে সর্বোচ্চবার বলে টাচ করার রেকর্ড।

এই জয়ের ফলে শিরোপার আরও কাছে চলে গেল ম্যান সিটি। কেননা দ্বিতীয়তে থাকা লিভারপুলের থেকে ১৮ পয়েন্টে এগিয়ে গেল তারা। ২৯ ম্যাচ খেলে সিটির পয়েন্ট ৭৮। যদি লিগের পরবর্তী ৩টি ম্যাচই সিটি জিততে পারে এবং দ্বিতীয় দলের সাথে পয়েন্ট ব্যবধান ১৮ থাকে তাহলে ৬ ম্যাচ হাতে রেখেই লিগ জিতে যাবে গার্দিওলার সিটি।

Print Friendly, PDF & Email