জীবন্ত অভিজ্ঞতা- দরজার সামনের প্রতিবেশি যখন করোনা পজেটিভ

স্পোর্টস লাইফ, প্রতিবেদক আমি থাকি মিরপুর এলাকাতে। গত মে মাসের ২৩তারিখ, ঈদের আগে সকালের দিকে বাসার মালিক ফোন করে বললো ঘুমাচ্ছেন নাকি? আমি বললাম হ্যা। তারপর বললাম বলেন কি খবর? বাসার মালিক বললো : আপনার দরজার সামনের জনের করোনা পজিটিভ হয়েছে। একটু সাবধানে থাইকেন।

ঘুম থেকে তুলে এমন খবর শোনাবে কেউ ভাবা যায়? কি করবো, কাকে কি বলবো মাথায় তেমন কিছুই কাজ করছে না।
তারপর ভাবলাম যদি আমার হত তাহলে কি করতাম? হয়তো ঘটনা লুকিয়ে রাখতাম। গোপনে চিকিৎসা নিতাম। রুমের ভেতরে নিজেকে লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করতাম। জানা জানি হলে বাসা থেকে হয়তো নামিয়ে দেয়ার মত ঘটনাও ঘটতে পারতো। বাসা লকডাউন হতো। সবাই আমাকে দেখে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের চেয়ে বেশি ভয় পেতো ইত্যাদি ইত্যাদি… শত শত জটিলতা

যাই হোক মালিক ঘটনা বাইরে মহল্লাতে প্রকাশ করলেন না। কেন তা জানি না..। আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়ি নড়াইল জেলা। স্ত্রী ও ছোট্ট কন্যা সন্তান আগেই বাড়িতে চলে গেছে। তিনি আছেন একা। ভালই হয়েছে একদিক দিয়ে হোম কোয়ারেন্টাইন ভাল ভাবে সম্ভব একা একা।

এরপর বাসার মালিক সবাইকে ফোন করে বললেন তাকে এক বেলা বা দুই বেলা চলে এভাবে খাবার দিতে। কারণ তার পক্ষে রান্না করে খাওয়া বেশ কঠিন। আমরাও খাবার দিলাম একদিন। এভাবে বিল্ডিং এর সবাই খাবার দেয়া ও ফোনে যোগাযোগ রাখা এবং সাহস দেয়া শুরু হলো।

দিন কি আর থেমে থাকে। খারাপ সময় একদিন ঠিকই শেষ হয়। ওনি রুমে নিজেকে সবার কাছ থেকে আলাদা করে চিকিৎসা নিতে থাকলেন রুমের ভেতর। ১৪দিন পর আবারও টেস্ট করালেন। ফলাফল আসলো নেগেটিভ। এখন তিনি করোনা মুক্ত..সুস্থ
অভিজ্ঞা লেখার আগে তার সাথে অনেকক্ষণ কথা হলো। বললো ভাই ভাল আছি.. সবাই সহযোগিতা না করলে কি যে হত জানি না। একা একা রান্না করে খেতে হলে খুব কঠিন হতো। সবার প্রতি চিরকৃজ্ঞতা..

করোনা হলে আপন জন বলে আমরা যাদের চিনি তারাও পাশে থাকেন না!!! বাবা মারা যাচ্ছে কাছে ভিরছে না ছেলে-মেয়ে বা স্ত্রী। হায়রে জীবন..কিন্তু ভয়ের কিছু নেই। সাবধানে দুরুত্ব বজায় রেখে ফোনে কথার মাধ্যমে সাহস ও সহযোগিতা করে করোনা আক্রান্ত মানুষকে ভাল করে তোলা সম্ভব।

বাড়ির মালিক আক্রান্ত ব্যক্তিকে বের করে না দিয়ে, এবং হাসপাতালে না গিয়েও আক্রান্ত ব্যক্তি ভাল হয়ে উঠলেন। মালিকের এ উদ্যোগ সত্যি প্রশংসার দাবিদার…
ভয় নেই.. সচেতনতা ও সাহসের সাথে যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলা করুন। থেকবেন সব ঠিক হয়ে গেছে।
শেষে বলি সোলে ছবির গাব্বার সিং (আমজাদ খান) এর সেই বিখ্যাত ডায়লগ টা মনে রাখবেন সব সময় ..জো ডার গিয়া..সামঝো ও মার গিয়া।  

Print Friendly, PDF & Email