তাসকিনের শেষ চমক

স্পোর্টস লাইফডেস্ক : ম্যাচের শুরুতে মনে হচ্ছিল, আজকের দিনটা বোধ হয় তাঁর নয়। নিজের দ্বিতীয় বলেই স্লিপে ইমরুল কায়েস ছেড়ে দিলেন সহজ একটা ক্যাচ। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরার ম্যাচটা যেন ভুলে যাওয়ার মতো হয়ে যাচ্ছিল পরের ধারহীন বোলিংয়ে। ৬ ওভারে দেদার রান দিলেন। ৪৯ রানে উইকেটশূন্য।

সেখান থেকেই তাসকিন আহমেদ কী দুর্দান্তভাবেই না ঘুরে দাঁড়ালেন! ম্যাচের শেষ মুহূর্তে তাঁর দুটি ওভারই একদম রং পাল্টে দিল। ওই দুই ওভারে দিলেন মাত্র ১০ রান। জোড়ায় জোড়ায় শিকার করে তুলে নিলেন ৪ উইকেটও! ম্যাচ সেরা খেলোয়াড় সাকিব আল হাসান। ব্যাটে-বলে দারুণ ম্যাচ গেছে তাঁর।

বাংলাদেশের পক্ষে ওয়ানডে উইকেটের রেকর্ডও করেছেন। পুরস্কারটা সাকিবের পাওনা ছিল। কিন্তু আজ জনতার নায়ক অবশ্যই তাসকিন।
তাঁর সঙ্গে গত কিছুদিনে যা ঘটল, এ তো গল্প-উপন্যাসের মতো। মাত্র ২১ বছর বয়সে কত কীই না দেখে ফেললেন! দেখলেন পরিবারের বাইরে তাঁকে আরেক পিতৃস্নেহ দেওয়া অধিনায়ক মাশরাফি তাঁর জন্য কীভাবে কেঁদেছেন!

বিশ্বকাপের মতো আসর থেকে ফিরতে হলো বাড়িতে। আজ তাসকিনের প্রতিপক্ষ শুধু আফগান ব্যাটসম্যানরা ছিল না; ছিল আরও অনেক কিছু যা বলে বা লিখে বোঝানো যাবে না। আজ তাসকিন নেমেছিলেন নিজের ক্যারিয়ারের নতুন এক যুদ্ধে।

কাল ফেরার ম্যাচেও তাসকিনের এই উত্থান-পতনের গ্রাফটা থাকল। প্রথম ওভারে ওই ক্যাচ ফেলে দেওয়ার মনে হয়েছিল, তাসকিন হঠাৎ করেই খেই হারিয়ে ফেলেছেন। পরের দুই ওভারে দিলেন ২৪ রান, এর মধ্যে তৃতীয় ওভারেই শুধু ১৭ রান। তাসকিনকে দেখে তখন মনে হচ্ছিল, বল করতেই ভুলে গেছেন।

এর পরের ওভারগুলোতে মিলছিল না ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত। প্রথম তিন ওভারে ২৮ রান দেওয়ার পর আবার ফিরলেন ২৭তম ওভারে। তাতেও ভাগ্য বদলের কোনো ইঙ্গিত নেই। ওই স্পেলে দুই ওভারে দিলেন আরও ১২ রান। বাংলাদেশের হাত থেকেও ম্যাচটা একটু একটু করে বের হয়ে যাচ্ছে।
শেষ পর্যন্ত তাসকিন ফিরলেন ম্যাচের গোধূলি বেলায়, নিজের ওপর সবটুকু আলো নিয়ে। দল যখন সবচেয়ে বেশি চেয়েছিল, তখনই জ্বলে উঠলেন।
৪৮তম ওভারে যখন বল করতে এলেন, বাংলাদেশের তখন ৩ ওভারে দরকার আরও ২৭ রান। ওই ওভারের প্রথম ৩ বলে তাসকিন দিলেন ৪ রান। পরের বলটা উড়িয়ে মারতে গিয়ে আউট হইয়ে গেলেন বিপজ্জনক হয়ে উঠতে থাকা মোহাম্মদ নবী। এক বল বাদে আবার আউট করলেন আরেক হুমকি আসগর স্টানিকজাইকে।
তবে তখনো অনেক কাজ বাকি। শেষ ওভারে দরকার ছিল আরও ১৩ রান। প্রথম বলে এল ২ রান, পরের বলে এলবিডব্লু আশরাফ। পরের ৩ বলে ৩ রান দিয়ে নিশ্চিত করে ফেললেন দলের জয়। শেষ বলে উইকেট নিয়েই মাতলেন আনন্দে, বুনো উল্লাসে জানান দিলেন এই ফেরার অপেক্ষায় কতটা তৃষিত প্রহর কেটেছে তাঁর! বাংলাদেশের ৭ রানের জয়ও নিশ্চিত হয়ে গেল সেই সঙ্গে।
Print Friendly, PDF & Email