তিন বছর রিকশা চালিয়ে চীনের চেন পৌঁছে গেলেন রিও!‌

স্পোর্টস লাইফডেস্ক : দুধসাদা দাড়ি। গালভর্তি। তবে মাথা প্রায় ফাঁকা। চুল যেটুকু আছে, তাকে ওই ‘‌স্মৃতিটুকু থাক’‌ বলতে হয়। চামড়ার ভাঁজে হালকা ঢেউ খেলেছে। কিন্তু ষাট বছর বয়সেও শরীরে যেন ‘‌ভীম’–‌‌এর শক্তি! আর সেই শক্তির জোরেই তিন বছর ধরে রিকশা চালিয়ে রিও পৌঁছলেন তিনি!‌ অলিম্পিক দেখতে!‌  কে তিনি?‌ চেন গুয়ানমিং। চীনের জুঝু–‌‌তে বাড়ি চেনের।

এক সময় ছিলেন কৃষক। কিন্তু বৃদ্ধ হওয়ার পর, সে কাজ থেকে অবসর নিয়েছেন। তবে অবসরের এই দিনগুলো শুয়ে–‌বসে কাটানোর পক্ষপাতী ছিলেন না চেন। তাই ২০০৮ সালে ঠিক করেন রিকশা চালিয়ে বেজিং অলিম্পিকের আসরে হাজির হবেন। যেই না ভাবা, ওমনি বেরিয়ে পড়া। জুঝু থেকে ৮০০ কিলোমিটার পথ রিকশা চালিয়ে পৌঁছে যান চেন!‌ সেখানে স্বেচ্ছাসেবকের কাজও করেন। কিন্তু একবারে কি আশ মেটে?‌ মেটেওনি।

সেবার অলিম্পিক শেষ হওয়ার পর চেন জানতে পারেন, এর পরের অলিম্পিক হবে লন্ডনে। ব্যস, আবার লন্ডন পাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। থাইল্যান্ড, আফগানিস্তানের মতো দেশ পেরিয়ে, প্রায় দু’‌বছর ধরে রিকশা চালিয়ে লন্ডন পৌঁছন!‌ লন্ডন পৌঁছনোর পর, তাঁর খবর জানাজানি হতে, চেনকে অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের টিকিট দেওয়া হয়। বিশেষ উপহার হিসেবে।

কিন্তু লন্ডন অলিম্পিক শেষ হওয়ার আগেই ফের আনচান করে ওঠে চেনের মন। জানতে পারেন, ২০১৬–‌‌র অলিম্পিক হবে রিও–‌‌তে। আবার শুরু হয় প্রস্তুতি। বাড়ি ফিরে কিছুদিন কাটিয়েই ফের লন্ডন রওনা হন চেন। রিকশাতেই সংসার সাজিয়ে!‌ কানাডা, আমেরিকা, মেক্সিকো পেরিয়ে ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে পৌঁছেছেন রবিবার।

এই দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তি, যাত্রাপথে মুহুর্মুহু আবহাওয়ার বদল, প্রতিপদে অজানা ঝুঁকি— সব কিছুকে অনায়াসেই উপেক্ষা করেছেন চেন। শুধুই অলিম্পিকের টানে!‌ আপাতত তিনি অপেক্ষায়, উদ্বোধনের রাতে মশাল জ্বলে ওঠার। সেই মায়াবী রাতে মশালের আলোয় যখন জ্বলজ্বল করবে রিও, তখন সেই দ্যুতিকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেবে চেনের চোখের দীপ্তি!‌‌‌

Print Friendly, PDF & Email