নতুন অস্ত্রসজ্জাতেই নাদালকে ফের শাসন করতে দেখা যাচ্ছে

স্পোর্টস লাইফডেস্ক : রজার ফেডেরার এখন পর্যটকের ভূমিকায়। চোটের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ওপেন থেকে নাম তুলে নেওয়ার পর সুইৎজারল্যান্ডের পাহাড় ভ্রমণে বেরিয়ে পড়েছেন বিশ্বের প্রাক্তন এক নম্বর খেলোয়াড়।

সেরা সময়ের ফেডেরারকে বরাবর কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতেন যিনি, সেই রাফায়েল নাদাল আবার কব্জির চোট সারিয়ে প্রত্যাবর্তন ঘটিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র ওপেনে। শেষ ষোলোয় ওঠার পথে নাদালের খেলায় অনেকেই পুরনো ঝলক দেখতে পাচ্ছেন। সেই দাপট, সেই আগ্রাসন, প্রতিপক্ষদের ওপর খুনে মেজাজে ঝাঁপিয়ে পড়া। নাদাল-ভক্তদের উৎসাহিত হওয়ার মতো একাধিক ছবি চোখে পড়ছে ফ্লাশিং মেডোজে। এবং স্প্যানিশ তারকার বিধ্বংসী ফর্মে ফেরার নেপথ্যে প্রধান কারণ মনে করা হচ্ছে তাঁর গোপন অস্ত্রকে।

কী সেই গোপন অস্ত্র?

সার্ভিস করার সময় নাদালের নতুন স্ট্র্যাটেজি। গত এপ্রিলে বার্সেলোনায় প্রস্তুতি শিবিরে যা আয়ত্ত করেছিলেন নাদাল। পাল্টে ফেলেছিলেন সার্ভিস পোজিশন। আগে বাঁদিকের কোর্ট থেকে অ্যাডভ্যান্টেজ কোর্টে (ডানদিকের কোর্ট) সার্ভিস করার সময় তিনি দাঁড়াতেন সেন্টার লাইন ঘেঁষে। এখন সার্ভিস করছেন ট্র্যামলাইন (কোর্টের সীমানা)-এর কাছ থেকে।

টেনিসে প্রচলিত ধারণা হল, অ্যাডভ্যান্টেজ কোর্টেই বেশিরভাগ পয়েন্ট জেতা যায়। ট্র্যামলাইনের কাছ থেকে অ্যাডভ্যান্টেজ কোর্টে সার্ভিস করছেন বলে নাদালের সার্ভিস এখন আড়াআড়িভাবে পৌঁছচ্ছে। প্রতিপক্ষ ডানহাতি হলে তাঁকে রিটার্ন করতে হচ্ছে ব্যাকহ্যান্ডে। আড়াআড়িভাবে আসা জোরাল গতির সার্ভ রিটার্ন করা তাই ডানহাতিদের কাছে কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

টেনিস স্ট্র্যাটেজি বিশেষজ্ঞ ক্রেগ ও’শ্যানেসির মতে, অ্যাডভ্যান্টেজ কোর্ট থেকে নাদালের সার্ভিসের রিটার্ন এলেও তা বেশ দুর্বল হচ্ছে। ব্যাকহ্যান্ড ক্রসকোর্ট রিটার্ন শট প্রায় আসছেই না। ফলে সহজেই শক্তিশালী ফোরহ্যান্ড প্রয়োগ করে পয়েন্ট ছিনিয়ে নিচ্ছেন নাদাল।

ঘটনা হচ্ছে, চলতি যুক্তরাষ্ট্র ওপেনে যে তিনজনকে হারিয়ে চতুর্থ রাউন্ডে উঠেছেন নাদাল— তাঁরা প্রত্যেকেই ডানহাতি। আরও তাৎপর্যপূর্ণ হল, রাফার প্রধান প্রতিপক্ষ নোভাক জকোভিচ, ফেডেরার ও অ্যান্ডি মারে— তিনজনই ডানহাতি। মিয়োস রাওনিচ, স্ট্যানিসলাস ওয়ারিঙ্কাদের মতো উঠতি তারকারাও ডানহাতি। তাই নতুন সার্ভিস স্ট্র্যাটেজিতে সুবিধা পাওয়ার কথা নাদালের। তাঁর কাকা ও কোচ টোনি নাদাল বলেছেন, ‘‘কিছু একটা পরিবর্তন করতেই হতো। সার্ভিস একটু পাল্টাতেই হতো। তাই কোণটাকে আরও ভালভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে।’’

আন্দ্রে কুজনেৎসভকে নাদালের স্ট্রেট সেটে হারানোর দিনই মিখায়েল ইয়ুঝনি ম্যাচ চলাকালীন সরে দাঁড়ানোয় শেষ ষোলোয় পৌঁছে গেলেন জকোভিচও। মাত্র ৩১ মিনিট খেলার পরই ওয়াকওভার পেয়ে যান গতবারের চ্যাম্পিয়ন। এই নিয়ে পরপর দু’টো রাউন্ডে ওয়াকওভার পেলেন জকোভিচ।

‘‘আমার গ্র্যান্ড স্ল্যাম কেরিয়ারে কখনও এরকম ঘটেনি। তবে যত ম্যাচ খেলেছি আর শরীরের ওপর দিয়ে যেরকম ধকল গিয়েছে, তাতে আমার পক্ষে ভালই হয়েছে,’’ বলেছেন জকোভিচ। তবে ওয়াকওভারের ঘোষণা হওয়ার পরই কোচ বরিস বেকারের তত্ত্বাবধানে বেশ কিছুক্ষণ প্র্যাক্টিস করেন জোকার।
নাদালের গোপন অস্ত্রের খবর তাঁর কাছেও কি পৌঁছে গিয়েছে?

Print Friendly, PDF & Email