নারী না পুরুষ? বিতর্কিত সেমেনিয়াই নারীদের ৮০০ মিটারের চ্যাম্পিয়ন

স্পোর্টস লাইফডেস্ক : ক্যাস্টার সেমেনিয়া নারী না পুরুষ? এই বিতর্কটা ওঠে ২০০৯ সালে ক্যাস্টার সেমেনিয়া বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে মেয়েদের ৮০০ মিটারের সোনা জিতে নিলে। তখনো টিনেজার দক্ষিণ আফ্রিকার এই অ্যাথলেটের পরের একটি বছর খুব কঠিন কেটেছে। আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিক্স সংস্থা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। লিঙ্গ নির্ধারণের পরীক্ষায় নিজেকে নারী প্রমাণ করেই আবার মেয়েদের প্রতিযোগিতায় ফিরেছিলেন। এখনো বিতর্কটা আছে।

সেই বিতর্কিত সেমেনিয়া রিওর অলিম্পিক থেকে গলায় তুললেন মেয়েদের ৮০০ মিটার দৌড়ের সোনা। এখন ২৫ বছরের সেমেনিয়া ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকেও ছিলেন ফেভারিট। কিন্তু পরে ড্রাগ প্রতারক প্রমাণিত রাশিয়ার মারিয়া সাভিনোভার কারণে তা হলো না। ওই রুশ জিতেছিলেন সোনা। সেমেনিয়া রুপা। সেই দুঃখ রিওতে ঘুচালেন সেমেনিয়া।

দাপুটে দৌড়বিদ চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন কাছের প্রতিযোগীর সাথে ১.২০ সেকেন্ডের দুরত্ব রেখে। অলিম্পিক স্টেডিয়ামে তার এই কীর্তির জন্য সময় লেগেছে ১ মিনিট ৫৫.২৮ সেকেন্ড। বুরুন্ডির ফ্রান্সিন নিয়নসাবা রুপা জিতেছেন ১:৫৬.৪৯ সেকেন্ডে। কেনিয়ার মার্গারেট ওয়ামবুইয়ের ব্রোঞ্জ ১:৫৬.৮৯ সেকেন্ডে। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর সাথে প্রায় ১৫০ মিটার দুরত্ব রেখে জয় সেমনিয়ার দাপটের পরিচয়।

সোনা জেতার পর তিনি বলেছেন, “হাই স্কুলে পড়ার সময় তো আমি স্প্রিন্টার ছিলাম। ১০০ আর ২০০ মিটারে দৌড়াতাম। দারুণ রেস ছিল আজকেরটি।” সেমেনিয়ার ১৮ বছর বয়সে লিঙ্গ টেস্টের সময় দেখা যায় তার শরীরে স্বাভাবিক নারীর চেয়ে তিন গুন টেস্টোসটেরন আছে। এটা অনেক নারীর ভেতর বেশি থাকে। এই অবস্থাকে বলা হয় হাইপ্যারানড্রোগেনিজম। এই অবস্থা থেকে স্বাভাবিক নারীতে পিরতে অস্ত্রোপচার ও ঔশধ সেবন লাগে। সেমেনিয়া কখনো তা করেছেন কি না তা জান যায় না। তবে রিওর অলিম্পিকের সোনা জয়ে সেমেনিয়াকে নিয়ে পুরনো বিতর্কটা নতুন করে ফিরে এসেছে।

Print Friendly, PDF & Email