নিদাহাস ট্রফিতে ভারতের কাছে বাংলাদেশের হার

স্পোর্টস লাইফ, ডেস্ক : নিদাহাস ট্রফিতে শুরুটা ভালো হলো না বাংলাদেশের। ঘরের মাঠে ব্যর্থতার পর শ্রীলঙ্কাতেও হারের বৃত্তে কোর্টনি ওয়ালশের অধীনে থাকা দল।  টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের এই টুর্নামেন্টে ভারতের কাছে ৬ উইকেটে হেরেছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদরা।  

১৪০ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে আগ্রাসী ভঙ্গিতে খেলেছে ভারত। যদিও চতুর্থ ওভারে মোস্তাফিজের বলে হোঁচট খেয়েছে শুরুতে।  বোল্ড করেছেন ১৭ রানে ক্রিজে থাকা অধিনায়ক রোহিত শর্মাকে।  কিছুক্ষণ পর রিশাব পান্তকে বোল্ড করেন রুবেল হোসেন। ৭ রানে ফেরেন ভারতীয় ব্যাটসম্যান। ৪০ রানে দুই উইকেট হারানোর পর দলকে টেনে তুলেন ওপেনার শিখর ধাওয়ান ও সুরেশ রায়না। দুই অভিজ্ঞ তারকার ব্যাটেই শত রান পার করে ভারত।

বড় হতে থাকা এই জুটিকে ১০৮ রানে ভাঙেন রুবেল হোসেন।  মেহেদী হাসান মিরাজকে ক্যাচ দিয়ে ২৮ রানে ফেরেন রায়না।  কিন্তু ধাওয়ানকে আটকাতে পারছিল না বোলাররা।  অবশেষে হাফসেঞ্চুরিয়ান ধাওয়ানকে ৫৫ রানে সাজঘরে ফেরান তাসকিন। তার ৪৩ বলের ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ২টি ছয়।

শেষ পর্যন্ত মনিশ পান্ডে ও দিনেশ কার্তিকের ব্যাটে ১৮.৪ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে ভারত। পান্ডে ২৬ রানে অপরাজিত ছিলেন আর ২ রানে ব্যাট করছিলেন কার্তিক।

বাংলাদেশের পক্ষে ২৪ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন রুবেল হোসেন। একটি করে উইকেট নেন মোস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদ।  

এর আগে ভারতের বিপক্ষে ব্যাট করে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৮ উইকেটে ১৩৯ রান।ধীরে ধীরে উইকেট ব্যাটিংয়ের উপযোগী হবে- এমন চিন্তা থেকেই ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন রোহিত শর্মা। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদেরও একই ভাবনা ছিল কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি। তাই খেলতে নেমে পাওয়ার প্লেতেই দুই উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় বাংলাদেশ। মাঝখানে মুশফিক ও লিটন চেষ্টা করলেও বিপদ আর সামলাতে পারেনি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল। ১২ ওভারে ৭৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ শিবির।

শুরুতে ভারতের বিপক্ষে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারেই জীবন পান সৌম্য সরকার। উনাদকাটের বলে টপ এজে থার্ড ম্যানে বল উঠিয়ে দিয়েছিলেন সৌম্য। কিন্তু ভুল বোঝাবুঝিতে ক্যাচ লুফে নিতে পারেনি ভারত।

এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে বেশ কিছু বড় শট খেলেছেন বাঁহাতি ওপেনার। কিন্তু তৃতীয় ওভারে তাকে তালুবন্দি করে নেন পেসার উনাদকাট। ১২ বলে ১৪ রানে শর্ট ফাইনে চাহালকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।

পঞ্চম ওভারে তামিমও ফিরে যেতে পারতেন এলবিডাব্লিউ হয়ে। শারদুল ঠাকুরের বলে লেগ বিফোরে আঙুল উঁচিয়েছিলেন আম্পায়ার। কিন্তু রিভিউ নিলে বেঁচে যান বাঁহাতি ওপেনার। পরের দুই বলে অবশ্য চার মেরেও থিতু হতে পারেননি। ওভারের শেষ বলে উনাদকাটের তালুবন্দি হয়ে যান তামিম ইকবাল। ১৬ বলের ইনিংসে তামিম করেন ১৫ রান।

২ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর শটস খেলে রানের চাকা সচল রাখেন মুশফিক ও লিটন। দুই প্রান্ত থেকে লিটন ও মুশফিক মিলে শট খেলে রানের গতি বাড়াতে থাকেন। এর মাঝে অবশ্য বেশ কিছু জীবন পান লিটন দাস। নবম ওভারে ফের ধস নামে ব্যাটিংয়ে। মুশফিকুর রহিমকে গ্লাভসবন্দি করান শংকর। অবশ্য শুরুতে আউট দেননি আম্পায়ার। ভারত রিভিউ নিলে দেখা যায় বল মুশফিকের ব্যাটে লেগেই জমা পড়েছে উইকেটরক্ষকের হাতে। মুশফিক ফিরেছেন ১৪ বলে ১৮ রানে।

চাপ আরও বাড়িয়ে দেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ১১তম ওভারে ফিরে গিয়ে।  মাত্র ১ রানে শংকরের বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান বাংলাদেশ অধিনায়ক।  ততক্ষণে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৭২ রান। এরপর সাব্বির ও লিটন মিলে পুঁজি সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করেন। লিটন দাস বেশ কিছু জীবন পেয়ে থিতু হতে চেষ্টা চেয়েছিলেন।  কিন্তু তেমন সুবিধা করতে পারেননি।  তাকে ব্যক্তিগত ৩৪ রানে তালুবন্দি করান যুবেন্দ্র চাহাল। তাতে ভেঙে যায় ৩৪ রানের জুটি। এরপর লেজের দিকেও থিতু হয়নি কেউ। ফেরেন মেহেদী হাসান মিরাজ (৩)। সাব্বির রহমানও ৩০ রানের বেশি কিছু করতে পারেননি। বাংলাদেশ ৮ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করে ১৩৯ রান।

ভারতের পক্ষে ৩৮ রান দিয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন উনাদকাট। দুটি নেন বিজয় শংকর, একটি করে নেন শারদুল ঠাকুর ও যুবেন্দ্র চাহাল।

টুর্নামেন্ট হার দিয়ে শুরু করা ভারত অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে মাঠে নামে।  অপর দিকে বাংলাদেশ নামে ৬ জন ব্যাটসম্যান ও ৫ বোলার নিয়ে।

Print Friendly, PDF & Email