নেইমারের পায়ে সফল অস্ত্রোপচার

স্পোর্টস লাইফ, ডেস্ক : নেইমারের ভক্ত-সমর্থকদের জন্য স্বস্তির খবর, তার ডান পায়ে সফলভাবে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পিএসজি। আগামী জুনে বিশ্বকাপ সামনে রেখে ব্রাজিলিয়ান আইকনের পুরোপুরি সুস্থ হতে দুই মাস সময় লেগে যেতে পারে।

ব্রাজিলের বেলো হরিজন্তে শহরের মাতের দেই হাসপাতালে নেইমারের অপারেশেন করানো হয়। অস্ত্রোপচার করেছেন ব্রাজিলিয়ান ডাক্তার রদ্রিগো লাসমার।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইনজুরির অবস্থা মূল্যায়নে ৬ সপ্তাহ সময় লাগবে। এরপরই জানা যাবে ট্রেনিংয়ে ফেরার সম্ভাব্য দিনক্ষণ। এখন তাকে পর্যবেক্ষণের মধ্যে রাখা হয়েছে।

গত রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) মার্শেইয়ের বিপক্ষে ৩-০ গোলে জেতা লিগ ম্যাচটিতে অ্যাঙ্কেলে (গোড়ালি) মারাত্মক চোট পান নেইমার। পরীক্ষার রিপোর্ট বড় ধরনের দুঃসংবাদই বয়ে আনে। গোড়ালির হাড় না ভাঙলেও ডান পায়ের পাতার একেবারে ডান পাশের (পঞ্চম) হাড়ে ফ্র্যাকচার হয়েছে। ডাক্তারি ভাষায় যাকে বলে ফিফথ মেটাটারসাল। শুধু তাই নয়, বাজেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গোড়ালি।

যত দ্রুত সম্ভব সম্পূর্ণ ফিট হতে এবং একই জায়গায় ফের ইনজুরি এড়াতে অপারেশনের বিকল্প ছিল না। নেইমারের বাবা নেইমার সান্তোস সিনিয়র, পিএসজি ও ব্রাজিল ন্যাশনাল টিম সবাই এতে একমত হন।

মে মাসের আগে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা ক্ষীণ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তিন মাসও লাগতে পারে। এরপর নিজেকে সেরা রূপে আবিষ্কার করতে পূর্ণ ছন্দ ফিরে পেতে পেতে চলে আসবে বিশ্বকাপ। এটিই সেলেকাওদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ব মঞ্চে সেরা নেইমারকে দেখা যাবে তো!

রিও ডি জেনিরো-গালাইও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেইমার পৌঁছানোর পর সংবাদমাধ্যমকে সেই আশঙ্কার কথাই বলেছিলেন রদ্রিগো লাসমার। তার কথায়, জুনের আগ পর্যন্তও হয়তো মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে নেইমারের, রাশিয়া ওয়ার্ল্ডকাপ শুরুর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে।

পায়ের পাতার পঞ্চম হাড় (ফিফথ মেটাটারসাল) ফ্র্যাকচার ইনজুরি প্রাথমিক ধারণার চেয়ে খারাপ বলে অপারেশনের আগে উদ্বেগ প্রকাশ করেন লাসমার, ‘নেইমার ফিফথ মেটাটারসাল ফ্র্যাকচারে ভুগছে। এটা তার পায়ের উল্লেখযোগ্য ফ্র্যাকচার। এখানে বিভিন্ন রকমের ফ্র্যাকচার হয়।

এ ধরনের ফ্র্যাকচার অনেক সময়ই অগোচরে থাকে এবং তা আরও বড় হতে থাকে, যেমনটা হয়েছে নেইমারের, এতে কোনো সন্দেহ নেই। সেরা এবং একমাত্র সমাধান সার্জারি, কারণ অধিক রক্ষণশীল চিকিৎসায় সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে আরেকটি ফ্র্যাকচার হওয়ার সুযোগ থাকে। আমরা তাকে নিয়ে ওই ঝুঁকিটা নিতে পারি না।’

এ ধরনের ফ্র্যাকচার নেইমারের রিকোভারি টাইম বাড়িয়ে দিতে পারে বলেও শঙ্কা ব্যক্ত করেন লাসমার, ‘সেরে ওঠার সময় দুই বা আড়াই বা তিন মাস। প্রত্যেক খেলোয়াড়ই ভিন্ন। উদ্দেশ্য হচ্ছে অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা এবং প্রতিনিয়ত রিকোভারি নিয়ন্ত্রণ করা।’

আকস্মিক বড় ধরনের ইনজুরিতে ২৬ বছর বয়সী নেইমারের মন খারাপ হওয়াটাই স্বাভাবিক। লাসমার সে কথাই তুলে ধরেছিলেন, ‘নেইমার ব্যথিত, কিন্তু সে বুঝতে পেরেছে যে তার কাছে অন্য কোনো বিকল্প নেই। সেরে ওঠার জন্য সে যত দ্রুত সম্ভব কাজ শুরু করবে। আমরা তাকে যত দ্রুত সম্ভব প্রস্তুত করতে সম্ভাব্য সবকিছু করবো।’

Print Friendly, PDF & Email