পদক পাওয়া প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহন করলো না বাংলাদেশ ভারোত্তোলন দল! কিন্তু কেন?

হুমায়ুন সম্রাট : আজ শুক্রবার ২ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জর্ডানের রাজধানী আম্মানে শুরু হয়েছে তৃতীয় আফ্রো-এশিয়া ভারোত্তোলন চ্যাম্পিয়নশীপ-২০১৬।

গত বছর উজবেকিস্তানে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আফ্রো-এশিয়া ভারোত্তোলন চ্যাম্পিয়নশীপে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ ভারোত্তোলন দল দুটি পদক জিতে ছিল। অথচ পদক পাওয়া সেই প্রতিযোগিতায় কিনা বাংলাদেশ ভারোত্তোলন দল এবার অংশ গ্রহনই করছে না! কিন্তু কেন?

তার আগে জেনে নেয়া যাক কে কে সেবার পদক পেয়েছিল।

মেয়েদের ৭৫কেজি ওজন শ্রেনীতে রৌপ্য পদক পেয়েছিল এসএ গেমসে স্বর্ণ পদক জয়ী মাবিয়া আক্তার সিমান্ত (বাংলাদেশ আনসার)। আর ছেলেদের ৬২কেজি ওজন শ্রেনীতে ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছিল বাংলাদেশ সেনা বাহিনী দলের শিমুল কান্তি সিংহ।

সাবেক নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক উইং কমান্ডার মহিউদ্দিন আহমেদের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সেবার দুইজন ভারোত্তোলক প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহন করেই বাংলাদেশকে দুটি পদক উপহার দিয়েছিল।

কিন্তু এবছর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের তৈরী ভারোত্তোলন এডহক কমিটি চ্যাম্পিয়নশীপে অংশ গ্রহনের জন্য আবেদনই করেনি! অথচ প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের নাম পাঠিয়ে আবেদন করলেই আয়োজক কর্তৃপক্ষ খেলোয়াড়দের থাকা ও খাওয়া ফ্রি করে দিতো। এমন সুযোগ থাকার পরও আবেদন করেনি ফেডারেশন এর কর্তারা!

কেন আবেদন করলো না বাংলাদেশ ভারোত্তোলন ফেডারেশন?

খোঁজ নিয়ে জানা যায় এডহক কমিটির নতুন সাধারণ সম্পাদক লে. কর্নেল শহিদুল ইসলাম চৌধুরী ঠিকমত ফেডারেশনেই আসেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফেডারেশনের এক সদস্য জানান, সাধারণ সম্পাদক ঠিকমত আসেন না। তেমন কোন খোঁজ খবর রাখেন না। মাঝে মধ্যে তিনি ফেডারেশনে আসেন। ফেডারেশনের ইমেল ব্যবহার করেন সদস্য খুরশিদা খাতুন। খুশি ফেডারেশন এর ইমেল পাসওয়াট সাধারণ সম্পাদককে দেন না! তিনি পাসওয়াট চাইলে খুশি জানিয়ে দেন প্রেসিডেন্ট এর নির্দেশ আপনাকে পাসওয়াট দেয়া যাবে না! সত্যি আজব বটে। ফেডারেশনের ইমেল এর পাসওয়াট ব্যবহার করেন সদস্য খুশি। তাই সাধারণ সম্পাদক এক রকম রাগ করেই ফেডারেশনে আসেন না। অনুমান করাই যায় কেমন চলছে বর্তমান ভারোত্তোলন ফেডারেশন।

প্রথমবার চ্যাম্পিয়নশীপে অংশ নিয়ে রৌপ্য পদক জয়ী সিমান্ত বলেন, আমার কিছুই বলার নেই। কি বলবো? যে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দেশকে রৌপ্য পদক এনেদিলাম, আর এবার কিনা সেই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার জন্য ফেডারেশন থেকে নামই পাঠানো হলো না! আমরা খেলোয়াড়রা বার বার নাম পাঠানোর কথা বলেছিলাম। কেন পাঠানো হল না তা আমরা জানি না।

চ্যাম্পিয়নশীপে অংশ গ্রহনের জন্য কেন আবেদন করা হল না? এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো সিমান্তদের জানা নেই। কিন্তু ফেডারেশনের একটি সূত্র জানায়, আবেদন করতে হলে অনেক কিছু জানতে হয় বুঝতে হয়। স্পন্সর ম্যানেজ করার ক্ষমতা থাকতে হয়। এসব ক্ষমতা বা অভিজ্ঞতা কি বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক, প্রেসিডেন্ট কিংবা অন্য কোন সদস্যের আছে? নাই বলেই এখন পর্যন্ত দেশে কোন প্রতিযোগিতা আয়োজন বা বিদেশে দল প্রেরণ কোনটাই করতে পারেনি তারা।

চ্যাম্পিয়নশীপে বাংলাদেশ ভারোত্তোলন দলের অংশ গ্রহন না করা প্রসঙ্গে জানান জন্য বর্তমান এডহক কমিটির সাধারণ সম্পাদক লে. কর্নেল শহিদুল ইসলাম চৌধুরীর সাথে (০১৭১৩ ০৬০৬২৪) এই নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।

Print Friendly, PDF & Email