পাকিস্তানকে হারিয়ে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

স্পোর্টস লাইফ, ডেস্কএসিসি ইমার্জিং কাপে টানা দ্বিতীয়বার সেমিফাইনালে উঠল বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২৩ দল। রবিবার ‘বি’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে তারা পাকিস্তানকে হারিয়েছে ৮৪ রানে।

শীর্ষ দলকে হারানোর পর ৩ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে শেষ চারে উঠেছে বাংলাদেশ। সমান পয়েন্ট পেলেও রেটিং বেশি থাকায় গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান।

করাচি জাতীয় স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে তিনটি পঞ্চাশ ছাড়ানো ইনিংসে ৫ উইকেটে ৩০৯ রান করে বাংলাদেশ। তারপর ৪৬.৫ ওভারে ২২৫ রানে স্বাগতিক দলকে গুটিয়ে দেন বোলাররা।

তিন ফিফটি ও দারুণ দুটি জুটিতে রানের পাহাড় গড়ে বাংলাদেশ। ওপেনার মিজানুর রহমান (২৫) দলীয় ৪৮ রানে ফিরে গেলে জাকির হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় তারা। ৯৮ রানের জুটি গড়েন দুজনে।

৬৯ রানে জাকির বিদায় নিলে ছোটখাটো বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। ১৪৬ রানে ২ উইকেট হারানো দলটি চতুর্থ উইকেট হারায় ১৬১ রানে। ৪৯ রানে আক্ষেপ নিয়ে আউট হন নাজমুল।

মোসাদ্দেক হোসেন ও ইয়াসির আলী এই ধাক্কা সামলে নেন শক্ত হাতে। দুজনেই ফিফটি হাঁকিয়ে গড়েন ১২৬ রানের জুটি। ইয়াসির ৫৬ রানে খুশদিল শাহের তৃতীয় শিকার হলেও ইনিংস সেরা ৮৫ রানে অপরাজিত ছিলেন মোসাদ্দেক। ৭৪ বলে তিন চার ও চার ছয়ে সাজানো ছিল তার ইনিংস।

পাকিস্তান ৮ জনকে দিয়ে বল করিয়েও সুবিধা করতে পারেনি। খুশদিল ৩টি আর মোহাম্মদ মুসা নেন ২ উইকেট।

বড় লক্ষ্যে নামা পাকিস্তানকে শুরুতেই ধাক্কা দেন নাঈম হাসান। এই স্পিনার তার দুই ওভারে ফিরিয়ে দেন আলী ইমরান ও সৌদ শাকিলকে। ২৩ রানে ২ উইকেট হারানো স্বাগতিকরা পথে ফেরে জিসান মালিক ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের জুটিতে।

শরিফুল ইসলাম ৮৮ রানের এই জুটি ভেঙে আবারও পাকিস্তানকে বিপদে ফেলেন। জিসান ৪৭ রানে ফেরার পর অধিনায়ক রিজওয়ান ৪৬ রানে আউট হলে আর উঠে দাঁড়াতে পারেনি তারা। খুশদিল ৬১ রানের সেরা ইনিংস খেলে কেবল ব্যবধানটা কমিয়েছেন।

মোসাদ্দেক ইনিংস সেরা ব্যাটিংয়ের পর বল হাতে দুটি উইকেট নেন। তাতে ম্যাচসেরা হয়েছেন তিনিই। তার সমান উইকেট পান শফিউল ইসলাম। বল হাতে সেরা পারফরম্যান্স ছিল নাঈমের, নিয়েছেন ৩ উইকেট।

এদিন সংযুক্ত আরব আমিরাত ও হংকংয়ের অন্য ম্যাচটি নিষ্পত্তি হয়নি। তাতে দুই দল একটি করে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে। বাংলাদেশকে প্রথম ম্যাচে হারানো আমিরাত ৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপেই বিদায় নিশ্চিত হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email