পেসারদের দাপটে ইনিংস ব্যবধানে জয় উত্তরাঞ্চলের

স্পোর্টস লাইফ, ডেস্কক্রিকেট সত্যিই ‘গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা’। যা আরও একবার প্রমাণ হলো বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) পঞ্চম রাউন্ডের খেলায়। যে দলটা আগের দিন কোনও উইকেট না হারিয়ে দিন শেষ করেছিল ১১০ রানে, সেই তারাই কিনা দুই ইনিংস মিলিয়ে তৃতীয় দিনের দুই সেশনও খেলতে পারল না!

বুধবার তৃতীয় দিনের শেষ সেশনের শুরুতেই উত্তরাঞ্চলের বিপক্ষে ইনিংস ও ২৮ রানে হার মানে পূর্বাঞ্চল। তাতে শেষ রাউন্ডের আগে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দৌড়ে ৫৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থানটা সুসংহত করল উত্তরাঞ্চল।

মিরপুর স্টেডিয়ামে বুধবার পূর্বাঞ্চলের দুই ওপেনার লিটন দাস ও তাসামুল হক দলীয় ১১০ রান নিয়ে শুরু করেন ‍তৃতীয় দিনের খেলা। আগের দিনের বিকেলের দারুণ ব্যাটিংয়ের মতো সুন্দর হয়নি তাদের তৃতীয় দিনের সকালটা। প্রথম ইনিংসে আর ১০৭ রান তুলতেই অলআউট হয় পূর্বাঞ্চল। আর তাতেই ফলোঅনে পড়ে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থাকা পূর্বাঞ্চল।

ইয়াসিন আরাফাত ও শরিফুল ইসলামের বোলিং তোপে লণ্ডভণ্ড পূর্বাঞ্চল। সব মিলিয়ে প্রথম ইনিংসে ২১৭ রান করতে পারে পূর্বাঞ্চল। দ্বিতীয় দিন ১১০ রানে অবিচ্ছিন্ন থাকা লিটন ও তাসামুল দলীয় আর ১২ রান যোগ করে বিচ্ছিন্ন হন। তাসামুল ১০৬ বলে ৭ চারে ৫৬ রানে আউট হন।

তার বিদায়ের পর একই পথ ধরেন লিটন। মুমিনুল হককে (২১) সঙ্গে নিয়ে ৩২ রানের জুটি গড়া এই উইকেটরক্ষক হাফসেঞ্চুরি পূরণ করে খেলেন ৬৯ রানের ইনিংস। দুই ওপেনারের ভালো শুরুর পরও মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় শেষ পর্যন্ত ফলোঅনে পড়ে পূর্বাঞ্চল।

পূর্বাঞ্চলকে ইনিংস ব্যবধানে হারাতে প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও বল হাতে বিধ্বংসী ছিলেন ইয়াসিন ও শরিফুল। এর সঙ্গে যোগ হয়েছিলেন অভিজ্ঞ পেসার শফিউল ইসলাম। দ্বিতীয় ইনিংসে এই তিন পেসারের সঙ্গে পেরে ওঠেনি পূর্বাঞ্চল।

তাদের তোপে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৩৮.১ ওভারে ১৭০ রান করতেই অলআউট পূর্বাঞ্চল। লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যান সোহাগ গাজী ৫০ রানের ইনিংস না খেললে হারের ব্যবধানটা আরও বাড়তো তাদের। শেষ দিকে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন খেলেন ৩২ রানের ইনিংস।

উত্তরাঞ্চলের হয়ে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৭টি করে উইকেট নিয়েছেন ইয়াসিন ও শরিফুল। এছাড়া শফিউল ইসলাম পেয়েছেন ৪ উইকেট।

এর আগে উত্তরাঞ্চল প্রথম ইনিংস দাঁড় করিয়েছিল ৪১৫ রানের সংগ্রহ। জহুরুল ইসলাম ও আরিফুল হকের জোড়া সেঞ্চুরিই মূলত উত্তরাঞ্চলের ইনিংস বড় করতে ভূমিকা রাখে। জহুরুল করেন ১১৩, আর আরিফুলের ব্যাট থেকে আসে ১০১ রান।

Print Friendly, PDF & Email