ফখরের দানবীয় ইনিংসে পাকিস্তানের চতুর্থ জয়

স্পোর্টস লাইফ, ডেস্কজিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পাকিস্তানের দ্বিতীয় ওয়ানডে জয়ের পর টুইট করেছিলেন রমিজ রাজা। প্রশ্ন ছুঁড়েছিলেন এভাবে, ‘পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানরা কেনও ২০০ রানের পেছনে ছুটছে না?’ রমিজ রাজার এমন প্রশ্নবাণ হয়তো বিদ্ধ করেছিল ফখর জামানকে! শুক্রবার ওপেনার ফখর জামান প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন ঐতিহাসিক এক ইনিংসের জন্ম দিয়ে। চতুর্থ ওয়ানডেতে তার ২১০ রানের দানবীয় ইনিংসে জিম্বাবুয়েকে ২৪৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে পাকিস্তান।

রমিজ রাজার এমন প্রশ্ন বোধহয় তাতিয়ে দিয়েছিল ফখরকে। না হলে ছোট্ট ক্যারিয়ারে এভাবে কেন জ্বলে উঠবেন? বলতে গেলে দ্বিতীয় সারির জিম্বাবুয়েকে সামনে পেয়ে ২২ গজে নিজেরই এক ‘ডিজনিল্যান্ড’ তৈরি করেছিলেন ফখর। তাতে বাস্তবে রূপ দিচ্ছিলেন নিজের আকাঙ্ক্ষিত সব শট। আর সেই রূপদানে ভেঙে গেছে সাঈদ আনোয়ারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের রেকর্ডটিও।  

পাকিস্তানের ওয়ানডে ইতিহাসে সাঈদ আনোয়ারের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটি টিকে ছিল ২৪ বছর। এর পর আর কোনও পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান ছুঁতে পারেননি এমন উচ্চতা। সিরিজে উড়তে থাকা ফখর জামান দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি হাঁকালে রমিজ রাজার চেপে থাকা দীর্ঘশ্বাসটা বের হয়ে আসে প্রশ্নবোধক হয়ে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এই এক টুইটেরই জবাব দিলেন ফখর। তার অপরাজেয় ২১০ রানে ৫০ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৩৯৯ রানের বিশাল পুঁজি পায় পাকিস্তান।

বিধ্বংসী ইনিংস খেলতে ২৪টি চার ও ৫টি ছয়ের সাহায্য নেন ফখর। তাতে ওয়ানডে ইতিহাসে নিজেদের সর্বোচ্চ স্কোরটাও গড়ে ফেলেছে পাকিস্তান। একই দিন রেকর্ড বুকটা নতুন করে লিখেছেন ফখর জামান ও আরেক ওপেনার ইমাম উল হক। নতুন করে লেখা ইতিহাসে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রানের উদ্বোধনী জুটি এখন এই দুজনের। ৪১তম ওভারে ইমাম উল হককে ১১৩ রানে বিদায় দিলে ভেঙে যায় এই জুটি।

পরে ২২ বলে ৫০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেছেন আসিফ আলী। দুজনে ভর করে নিজেদের ওয়ানডের ইতিহাসটা সমৃদ্ধ করেছে পাকিস্তান। ৫০ ওভারে তুলেছে ৩৯৯ রান। 

জবাবে খেলতে নামা জিম্বাবুয়ে ছিল চিরচেনা ভঙ্গিতে। নখদন্তহীন ব্যাটিং আক্রমণে আজকেও ব্যাটিং বিপর্যয় সঙ্গী ছিল স্বাগতিকদের। পাকিস্তানি বোলিং আক্রমণে তারা ৪২.৪ ওভারে ১৫৫ রানে অলআউট হয়ে গেছে। টিরিপানো সর্বোচ্চ ৪৪ রানের ইনিংস খেলেছেন, সঙ্গে ৩৭ রানে কিছু প্রতিরোধ দেন এলটন চিগুম্বুরা।

পাকিস্তানের পক্ষে ৪ উইকেট নেন লেগ স্পিনার শাদাব খান। দুটি নেন উসমান খান ও ফাহিম আশরাশ। একটি করে নেন জুনায়েদ খান ও শোয়েব মালিক। ম্যাচসেরা হয়েছেন ফখর জামান।

পাকিস্তানের টানা চার ম্যাচ জয়ে ধবলধোলাইয়ের দিকে যাচ্ছে জিম্বাবুয়ে। ৫ ম্যাচের সিরিজ পাকিস্তান নিশ্চিত করে রাখলো ৪-০ তে।

Print Friendly, PDF & Email