ফাইনালে ভারতকে ১৬৭ রানের টার্গেট দিল বাংলাদেশ

স্পোর্টস লাইফ, ডেস্ক : কলম্বোতে ত্রিদেশীয় টি-২০ সিরিজের ফাইনালে ভারতকে ১৬৭ রানের টার্গেট ছুঁড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। ৭৭ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস উপহার দেন সাব্বির রহমান। শেষ ওভারে ১৮ রান তুলে দলকে লড়াকু স্কোর এনে দিতে কার্যকরী ভূমিকা রাখেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

নির্ধারিত ওভার শেষে স্কোরবোর্ডে ৮ উইকেটে ১৬৬ রান তোলে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা টাইগাররা। ৭ বলে দু’টি চার ও এক ছক্কায় ১৯ রানে অপরাজিত থাকেন মিরাজ।

ওয়ানডাউনে নেমে চাপের মুখে এক প্রান্ত আগলে রেখে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেন রানে ফেরা সাব্বির। ১৯তম ওভারে উনাদকাতের বলে বোল্ড হওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৫০ বলে ৭৭। তাতে ছিল ৭টি চার ও ৪টি ছক্কার মার।

সাব্বিরের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে ১৫তম ওভারে রানআউট হন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (২১)। দু’জনের জুটিতে আসে ৩৬। মাহমুদউল্লাহর বিদায়ে ১০৪ রানে পঞ্চম উইকেটের পতন ঘটে। ১৭তম ওভারে রানআউট হন সাকিব আল হাসান (৭)।

দলীয় ৩৩ রানে তিন উইকেট হারানোর পর ৩৫ রানের জুটিতে প্রাথমিক চাপ সামাল দেন মুশফিক-সাব্বির। দলীয় ৬৮ রানে বিদায় নেন ইনফর্ম মুশফিকুর রহিম (৯)। লেগস্পিনার যুজভেন্দ্র চাহালের তৃতীয় শিকারে পরিণত হন ‘মি. ডিপেন্ডেবল’। বিজয় শংকরকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাজঘরে।

প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে দারুণ শুরুর পর হঠাৎই যেন ছন্দপতন! ৬ রানের মধ্যে তিন উইকেটের পতন ঘটে। তামিম-সৌম্যকে ফিরিয়ে জোড়া আঘাত হানেন চাহাল। পঞ্চম ওভারে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে লং-অনে বাউন্ডারি লাইনে শারদুল ঠাকুরের হাতে ধরা পড়েন তামিম। শরীরের ভারসাম্য রেখে দর্শনীয় ক্যাচ নেন তিনি। শিখর ধাওয়ানের তালুবন্দি হন সৌম্য সরকার (১)।

অাগের ওভারে অফস্পিনার ওয়াশিংটন সুন্দরকে মারতে গিয়ে শূণ্যে তুলে সুরেশ রায়নার হাতে ক্যাচ তুলে দেন ওপেনার লিটন। উদ্বোধনী জুটি থামে ২৭ রানে (৩.২ ওভার)।

চাহাল তিনটি ও দু’টি উইকেট নেন পেসার জয়দেব উনাদকাত। অন্যটি ওয়াশিংটন সুন্দরের।

প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ফাইনাল বাধা টপকে প্রথমবারের মতো ট্রাইনেশন সিরিজের ট্রফি জয়ে চোখ রাখছে টিম বাংলাদেশ। রাউন্ড রবিন পর্বে ভারতকে হারাতে না পারলেও স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাকে দুই ম্যাচেই হতাশায় ডুবিয়ে ফাইনালের টিকিট কাটে কোর্টনি ওয়ালশের শিষ্যরা।

পুরো দল এখন এখন উজ্জীবিত। চ্যালেঞ্জ এখন টি-টোয়েন্টিতে ভারতকে প্রথম হারের স্বাদ দিয়ে শিরোপা উল্লাসে মাতার। প্রথম ম্যাচ হারের পর টানা তিন জয়ে তরুণদের নিয়ে সামর্থ্যের জানান দেয় ধোনি-কোহলিবিহীন ভারত।

ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণে এখনো ভারতকে হারাতে পারেনি বাংলাদেশ। সাতবারের মুখোমুখি লড়াইয়ে প্রতিবারই সঙ্গী হয়েছে হতাশা। কয়েকটি ম্যাচে জয়ের কাছাকাছি গিয়েও আক্ষেপে পুড়তে হয়। সবশেষ চলমান সিরিজে দ্বিতীয়বারের দেখায় জেগেছিল জয়ের সম্ভাবনা (১৭৭ তাড়া করে শেষদিকে রান তুলতে না পেরে ১৭ রানে হার)।

একাদশে কোনো পরিবর্তন আনেনি বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট। একটি পরিবর্তন ভারতীয় দলে। পেসার মোহাম্মদ সিরাজের জায়গায় ফিরেছেন জয়দেব উনাদকাত।

Print Friendly, PDF & Email