ফুটবলারদের কোনো শাস্তি হয়নি বলেই আজকের এই দুরবস্থা : জুয়েল রানা

স্পোর্টস লাইফডেস্ক : প্রীতি ম্যাচে মালদ্বীপের কাছে ৫-০ গোলের ভরাডুবির পর বাংলাদেশের পুরুষ ফুটবল নিয়ে চারদিকে হতাশার সুর। সেই সাথে চলছে খেলোয়াড় ও দল নিয়ে নানামুখী সমালোচনা। সাবেক জাতীয় ফুটবলার জুয়েল রানা চেষ্টা করেছেন ফুটবলের সমস্যাগুলো ধরতে। তিনি দেশের ফুটবলের এই চরম নিম্নমুখি নিয়ে বলেন-

এমন হারের পর তো আর বলার কিছু থাকে না। বেশ কিছুদিন ধরেই ব্যর্থতার আবর্তে আমাদের ফুটবল। এখন শুধু এই বাস্তবতাটা মেনে নিতে হবে যে আমাদের ফুটবল শেষ হয়ে গেছে। সব কিছু নতুন করে শুরু করতে হবে। নতুন ফুটবলার তৈরি করতে হবে। এই ফুটবলাররা বুঝে গেছে, তাদের ছাড়া চলবে না।

তারা পুরো ফুটবলকে জিম্মি করে ফেলেছে। জাতীয় দল এবং ক্লাবগুলোও অসহায় তাদের কাছে। বেঞ্চের ফুটবলারও ২০ লাখ টাকা নিয়ে বসে থাকে! অথচ নিজেদের পারফরম্যান্সের দিকে ন্যূনতম কোনো খেয়াল নেই। আমাদের আগের প্রজন্মের ফুটবলারদের কর্মকাণ্ডের ফল আমরা ভোগ করেছি। ক্লাব অফিশিয়ালরা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের ফুটবলারদের পুলে ফেলে দিয়েছিল। জেন্টলম্যান অ্যাগ্রিমেন্ট করেছিল। এ জন্য রাগে-ক্ষোভে জাতীয় দল থেকে অবসর নিয়েছিলাম।

এখন এই সময়ের ফুটবলাররা যা শুরু করেছে আবার অফিশিয়ালরা নতুন করে ভাবতে পারে। আমি এটা কামনা করি না। কিন্তু সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললে পরের প্রজন্ম বিপদে পড়বে নিশ্চিত। সাফ গেমসে প্রথম ম্যাচে হেরেছিলাম ২-১ গোলে। হারের পর নিজেদের বোধোদয় হয়েছিল। তারপর নিজেদের কমিটমেন্টের সর্বোচ্চ দেখিয়ে সাফে প্রথম সোনার পদক জিতেছিলাম।

এই ফুটবলারদের মধ্যে কমিটমেন্টের ঘাটতি অনেক। এক ম্যাচ হারলে যে পরের ম্যাচ জিতে দেখাবে, সেই জিদও কাজ করে না তাদের মধ্যে। বরং তারা বাজে খেলে, নানা অপকর্মের কথাও শুনি।

শাস্তি তো ধরে রাখতে পারেনি বাফুফে। সত্যি বললে, আমাদের কর্মকর্তাদের কারণে ফুটবলাররা আজকের বেয়ারা অবস্থায় এসেছে। সেই ডিডোর সময় থেকে দেখেন, খেলোয়াড়দের সাসপেন্ড করে এই কোচ টিকে থাকতে পারেননি। কিছুদিন আগে মদ্যপ অবস্থায় ধরা পড়ার পরও তাদের আবার জাতীয় দলে নেওয়া হয়েছে।

এরপর কোচের নির্দেশ উপেক্ষা করে ক্যাম্প ছেড়ে গেছে কয়েকজন। কোনো শাস্তি হয়নি বলেই আজকের এই দুরবস্থা। বাফুফেকে আসলে নতুন করে ভাবতে হবে, খেলোয়াড় তোলার দিকে নজর দিতে হবে। মালদ্বীপের মতোই ফুটবল বিপ্লব করতে হবে। তা না হলে আর কোন দলের বিপক্ষে মাঠে নামার সাহসই থাকবে না পুরুষ ফুটবলারদের।

তবে মেয়েদের কথা বলতে হয়। ছোট ছোট মেয়েরা এএফসি অনুর্ধ্ব-১৬ ফুটবলের চুড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। আমি মনে করি ওদের কাছ থেকে পুরুষ ফুটবলারদের অনেক কিছু শেখার আছে এবং শেখা উচিৎ।

Print Friendly, PDF & Email