বদলে গেছে মাশরাফির দল, বদলাচ্ছে মুশফিকের দলও

স্পোর্টস লাইফ, প্রতিবেদক ওয়ানডেতে বাংলাদেশ যে বদলে গেছে, সেটি নতুন করে বলার কিছু নেই। দেশের মাটিতে টানা ছয়টি সিরিজ জিতে উপমহাদেশের রেকর্ড ছুঁয়েছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। সদ্যসমাপ্ত ইংল্যান্ড সিরিজে একটু এদিক-ওদিক হলেই রেকর্ডটা সাত হয়ে যেত। টেস্ট সিরিজও শুরু হয়ে গেছে। প্রথম টেস্টে একটুর জন্য জয় হাতছাড়া বাংলাদেশ। তাই কৌতূহলী মন জানতে চাইছে, ওয়ানডের বদলে যাওয়া রূপ কি টেস্টেও দেখাতে শুরু করল বাংলাদেশ?

২০১৫ বিশ্বকাপের পর ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সাফল্য রীতিমতো ঈর্ষণীয়। মোট ১৮টি ওয়ানডেতে ১৩টি জয়, ৫টি হার। জয়-পরাজয়ের অনুপাত ২.৬। র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ৯ দলের বিপক্ষেও বাংলাদেশে সাফল্য যথেষ্ট ভালো। ১২ ওয়ানডেতে ৮ জয়। জয়-পরাজয়ের অনুপাত ২.০। বিশ্বকাপের পর শীর্ষ ৯ দলের বিপক্ষে এমন সাফল্য নেই কোনো দলেরই। ইংল্যান্ডের এ অনুপাত ১.৭৩, দক্ষিণ আফ্রিকার সেটি ১.৬০। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ও র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দল অস্ট্রেলিয়ারও এ সময়ে জয়–পরাজয়ের অনুপাত মাত্র ১.২৩।

এ সময়ে এশিয়ার অন্য তিন শীর্ষ দল—ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার জয়ের চেয়ে হারের সংখ্যাটাই বেশি। বাংলাদেশের এমন বদলে যাওয়ার পেছনের কারণটা বোঝা যায় দুটি পরিসংখ্যান দিয়ে। বিশ্বকাপের পর ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ব্যাটিং গড় ৩৯.২৭। ওভারপ্রতি রান নেওয়ার হার ৫.৭২। এ সময়ে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে আছে শুধু ইংল্যান্ডই—৪০.২৭ গড় ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের। অথচ এর আগের দুই বছরে বাংলাদেশের ব্যাটিং গড় ছিল ২৯–এর একটু বেশি, ওভারপ্রতিও ৫ –এর একটু বেশি করেই রান নিতেন ব্যাটসম্যানরা।

তবে বোলিংয়েই এসেছে সবচেয়ে উল্লেখ্যযোগ্য পরিবর্তন। গত দেড় বছরে বাংলাদেশের বোলারদের গড় ২৮.৫৪। ওভারপ্রতি রান দিয়েছেন তাঁরা ৫.০৮ করে। শীর্ষ নয় দলের কেউই এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আশপাশে নেই। সবচেয়ে কাছে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার বোলাররা প্রতিটি উইকেট পেতে ৩১.৫৩ রান খরচ করেছেন। ওভারপ্রতি তাঁরা দিয়েছেন ৫.৬১ রান।

কিন্তু সাদা পোশাকে এ বদলে যাওয়া বাংলাদেশের রূপ দেখা যায়নি। কাগজে–কলমে বিশ্বকাপের পর বাংলাদেশের টেস্ট পারফরম্যান্স কিন্তু খারাপ না। ৫ টেস্টে ১টি হার ও ৪ ড্র। তবে এর মধ্যে শুধু পাকিস্তানের সঙ্গে পাওয়া ড্রটাই নিজেদের আদায় করা। বাকি তিনটি ড্র এসেছে বৃষ্টির কল্যাণে।

মুফতে পাওয়া এই ৩ ড্রতে বাংলাদেশের টেস্ট পরিসংখ্যানটা একটু ভালো দেখাচ্ছে। ৯৩ টেস্টে ৭টি জয় ও ১৫টি ড্র এখন বাংলাদেশের। এর পাশে ৭১টি হার! প্রথম ৯৩ টেস্টে এত ম্যাচ হারেনি অন্য কোনো দল। জিম্বাবুয়েও তাদের প্রথম ৯৩ টেস্টে ১১টি ম্যাচ জিতেছে, হেরেছে ৫৬ টেস্টে। ৯৩ টেস্টে বাংলাদেশের জয়–পরাজয়ের অনুপাত ০.১০! আর বিশ্বকাপের পরে ৫ টেস্ট সে অনুপাত বাড়াতে পারেনি।

টেস্টে বাংলাদেশের করুণ দশার জন্য দায়ী সবাই—ব্যাটসম্যান ও বোলাররা। ৯৩ টেস্টে বাংলাদেশের ব্যাটিং গড় ২৪.২২। আর বল হাতে সেটা ৪৯.২৫! অর্থাৎ ব্যাট–বলের গড়ের পার্থক্য ২৫.০৩। অন্য কোনো দেশকে এত করুণ অবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হয়নি। প্রথম ৯৩টি টেস্টে মাত্র ৬টি ম্যাচ জেতা নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং গড় বাংলাদেশের চেয়ে খারাপ হলেও (২৩.২৮), বোলিং গড় অনেক ভালো (৩৬.৪৩)। বিশ্বকাপের পর প্রথম ৫ টেস্টে বাংলাদেশের ব্যাটিং গড় অবশ্য অনেক বেড়েছে (৩৪.৮৭)। দুঃখজনক হলো, বোলিং গড়টাও এ সময়ে বেড়েছে অনেক (৫৩.৭৮)! অর্থাৎ ওয়ানডের বদলে যাওয়া রূপের ছোঁয়া টেস্টে পায়নি মুশফিকুর রহিমের দল।

ইংল্যান্ড সিরিজের প্রথম টেস্টে অবশ্য বদলে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে বাংলাদেশ দল। একটুর জন্য ঐতিহাসিক এক টেস্ট জয় থেকে বঞ্চিত হলো বাংলাদেশ। কিন্তু ওই যে নিয়মিত টেস্ট না খেলার খেসারত দিয়ে মাত্র ২২ রানে হেরে গেছে মুশফিকের দল। ঢাকা টেস্টে নিশ্চয় সে কষ্ট ভোলার আপ্রাণ চেষ্টা করবে সাকিব-তামিমরা।ইংল্যান্ড সিরিজেই শুরু হবে টেস্টেও বদলে যাওয়ার যাত্রাটা?

Print Friendly, PDF & Email