‘বাবার ভূমিকা’ পালন করবেন ওয়ালশ

স্পোর্টস লাইফ, ডেস্ক : হুট করেই বাংলাদেশের প্রধান কোচের দায়িত্ব দেওয়া হলো কোর্টনি ওয়ালশকে। গত দেড় বছর বোলিং কোচ হিসেবে কাজ করা এই ক্যারিবিয়ানের সামনে এখন নতুন চ্যালেঞ্জ। ৬ মার্চ শ্রীলঙ্কায় নিদাহাস ট্রফি দিয়ে শুরু হবে তার এই পরীক্ষা। দলের সবচেয়ে সিনিয়র এই সাপোর্ট স্টাফ সেই পরীক্ষা উতরে যেতে চান সবার সহযোগিতায়।

হঠাৎ করে পাওয়া দায়িত্বকে চ্যালেঞ্জ মনে করছেন ওয়ালশ। সেরাটা দিয়ে সেটা মোকাবিলা করতে চান তিনি, ‘শ্রীলঙ্কায় আমাদের পরের সফরটি খুব বড় পরীক্ষা। এই চ্যালেঞ্জকে মেনে নিয়ে মানসম্পন্ন ও ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলা গুরুত্বপূর্ণ। এই কাজটি করার সুযোগ আমাকে দেওয়ায় আমি খুশি। আমি আমার সেরাটা দেবো এবং খুব ইতিবাচক ক্রিকেট খেলা নিশ্চিত করবো।’

প্রধান কোচের ভূমিকায় ওয়ালশের মূলমন্ত্র অন্যরকম, ‘এই ভূমিকা অনেকটা বাবার মতো হবে, খেলোয়াড়দের মনে আত্মবিশ্বাস এনে দিতে হবে। যারা ফর্মে আছে ও ফর্মহীন তাদের প্রত্যেকে অতিরিক্ত কাজ করতে প্রস্তুত, এটা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। দলের জন্য খেলতে হবে, এই চিন্তাটা প্রত্যেককে করতে হবে। তাহলেই প্রত্যেকে দলের জন্য খেলবে এবং যেটা প্রয়োজন সেটাই করবে। এটাই হবে আমার মূলমন্ত্র।’

দলের দুই সিনিয়র খেলোয়াড় ইমরুল কায়েস ও তাসকিন আহমেদকে ফিরে পেয়ে আশাবাদী ওয়ালশ, ‘আমরা প্রত্যেককে নির্দিষ্ট ভূমিকা দিতে চেষ্টা করবো, যেন তারা তাদের কাজটা করে। ইমরুল ও তাসকিনের অভিজ্ঞতা আছে, তাদের দলে ফিরে পেয়ে খুশি। আশা করি তারা ক্ষুধার্ত এবং সুযোগ পেলে তারা ভালো করবে। যদি আমরা একসঙ্গে একটা দল হিসেবে খেলি, তাহলে ভালো কিছু করতে পারবো।’

অক্টোবরে চন্ডিকা হাথুরুসিংহে পদত্যাগের পর বাংলাদেশ প্রধান কোচকে ছাড়াই খেলেছে তিনটি সিরিজ। টেকনিক্যাল ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন, সহকারী কোচ রিচার্ড হ্যালসেল ও সিনিয়র খেলোয়াড়রা সেই দায়িত্ব ভাগাভাগি করে নেন। কিন্তু সিদ্ধান্তটা অনুকূলে যায়নি, শ্রীলঙ্কা তিন ফরম্যাটেই বাংলাদেশকে হারিয়েছে।

এমন হতাশার সময় পার করার পর শ্রীলঙ্কা সফরের সপ্তাহখানেক আগে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান কোচের দায়িত্ব দেওয়া হলো ওয়ালশকে। অস্থায়ী হলেও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে চান সাবেক ক্যারিবিয়ান পেসার, ‘এটা অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব। শেষ কয়েকটি সিরিজে আমরা প্রধান কোচকে ছাড়া খেলেছিলাম। আমাকে এই দায়িত্ব নিতে বলা হলো। খুব বেশি লম্বা সময় আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আমি বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভালো করতে চাই। আরও অনেক বেশি ধারাবাহিক হতে চাই। আশাবাদী হয়ে এই চ্যালেঞ্জ নিচ্ছি।’

কিছু সময়ের জন্য এমন দায়িত্ব নেওয়াকে কঠিন মনে করছেন না ওয়ালশ, ‘এটা কঠিন নয়। কোচিং স্টাফের একজন সদস্য হিসেবে আমি এই ভূমিকায়। সুযোগ এসেছে এবং আমি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।’

হাতে খুব বেশি সময় নেই। দলের প্রতিভাবানদের নিয়ে এখন ধারাবাহিকতায় ফিরে আসার লক্ষ্য ওয়ালশের, ‘আমাদের মধ্যে ধারাবাহিকতার কিছুটা অভাব। প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছে দলে। তাদের কাজের মান ভালো। যদি আমরা ধারাবাহিক হতে পারি, তাহলে খুশি হবো। এটা হতে যাচ্ছে বেশ বড় চ্যালেঞ্জ এবং আমি এটাকে খুব গুরুত্ব দিচ্ছি।’

 

Print Friendly, PDF & Email