বার্সেলোনাকে বিদায় জানালেন ইনিয়েস্তা

স্পোর্টস লাইফ, ডেস্কসবাই তাঁকে কীভাবে মনে রাখুক, এটা জানতে চাওয়া হয়েছিল ইনিয়েস্তার কাছে। জবাবটা ঠিক নিজের মতো করেই দিলেন। ফুটবল মাঠে খুব ছোট্ট এক ছোঁয়ায় বদলে দেন ম্যাচের মুহূর্ত। ঠিক সেভাবেই ছোট দুটি কথা, এতেই নিজের পুরো গল্পটা বলে দিলেন আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা।

বার্সেলোনার সঙ্গে ২২ বছরের সম্পর্কে ইতি টানছেন মৌসুম শেষে। সে কথা সবাইকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতেই আয়োজন করা হয়েছিল সংবাদ সম্মেলনের। সেখানেই জানিয়ে দিলেন, তাঁকে তাঁর পরিচয়েই মনে রাখুক সবাই।

এই দিনটা আসবে জানা ছিল। কিন্তু এ যুক্তিও সান্ত্বনা হতে পারবে না। আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা বার্সেলোনা ছাড়ছেন, এটা মানা যায়! ১৬ মৌসুমে ৩১টি ট্রফি (এবারের লা লিগার ট্রফিটা হিসাবে রেখে) ক্যাবিনেটে সাজিয়ে নেওয়া ইনিয়েস্তা আজ প্রিয় বার্সেলোনাকে বিদায় বলে দিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের সংখ্যা থাকে বেশি। কিন্তু আজ সেখানে খেলোয়াড়ের সংখ্যাই বেশি থাকল। রুমের বাঁ দিকটা যে ইনিয়েস্তার সব বার্সা সতীর্থ দখল করে রেখেছেন। চোখ–মুখ পাথর করে রেখে বসে রয়েছেন জেরার্ড পিকে, রাকিটিচ, জর্ডি আলবা, ভিদালরা।

মুখে কোনো অভিব্যক্তি বুঝতে না দেওয়ার প্রাণান্ত প্রচেষ্টা কিন্তু চোখের কোনায় জমে ওঠা অশ্রুবিন্দু তাঁদের মনের কথাগুলো বলে দিচ্ছিল বেশ উচ্চৈঃস্বরেই। তাঁদের পাশে কোচ আরনেস্তো ভালভার্দে, সভাপতি বার্তেমেউ।

ইনিয়েস্তা এসে বসতেই সবাই মিলে করতালি দিলেন। বন্ধু, সতীর্থ, পরিবার, সাংবাদিক, আলোকচিত্রী সবাই আরেকবার তাঁদের মুগ্ধতা প্রকাশ করলেন ইনিয়েস্তার প্রতি। এই করতালিতেই হয়তো চোখের জল আটকাতে পারলেন তাঁরা।

ইনিয়েস্তা এত সহজে পার পেলেন না। ৩৩ বছর বয়সে এসে বার্সেলোনাকে বিদায় বলার মুহূর্তে বারবার চোখে পানি চলে আসছিল। পানি পানের অজুহাতে চোখের পানিটাকে আটকে রাখতে চাইলেন ইনিয়েস্তা আর নিচু স্বরে জানিয়ে দিলেন সে দুঃসংবাদ, ‘এখানে (বার্সেলোনায়) এটাই আমার শেষ মৌসুম।

এটা আমার জন্য খুব কঠিন এক দিন।’ নিপাট ভদ্রলোক ইনিয়েস্তা এরপরই নিজের পরিচয়টা আরও একবার জানালেন, ‘আমি যদি বার্সেলোনায় ক্যারিয়ার শেষ করার কথা কখনো ভেবে থাকি, সেটা এভাবেই করতে চেয়েছি। দলের কাজে লেগেছি, নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ করেছি এবং শিরোপা জিতেছি। এটা আমার জন্য অনেক কঠিন দিন, কারণ সারা জীবন আমি এখানেই ছিলাম।

আমার ঘর ও জীবনকে বিদায় বলা খুব কঠিন। কিন্তু নিকট ভবিষ্যতে আমি আমার সেরাটা দিতে পারতাম না। আমি আমার সতীর্থদের ধন্যবাদ দিতে চাই। আমার এ পর্যায়ে আসার পেছনে বার্সা ও লা মেসিয়ার অবদান। বার্সা আমাকে সব দিয়েছে। আমি ওদের প্রতি কৃতজ্ঞ।’

ইনিয়েস্তা বিদায় নিতে পারেন এমন একটা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। এরপরই সবাই মেতে উঠেছিল কেন ব্যালন ডি’অর দেওয়া হয়নি ইনিয়েস্তাকে এ আলোচনায়। কিন্তু ইনিয়েস্তার এ নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই, ‘ব্যালন না জেতায় আমার খুব দুঃখ আছে এমন নয়, এ নিয়ে আমার কোনো আফসোসও নেই।

একজন খেলোয়াড় হিসেবে এ জাদুকরি মুহূর্তের মধ্য দিয়ে গিয়েছি, এটাই আমার জন্য যথেষ্ট। এ থেকেই আমি আমার সুখ খুঁজে নিয়েছি। আমার একমাত্র লক্ষ্য ছিল এই ক্লাবে সফল হওয়া এবং আমি সেটা পেরেছি।’

বার্সেলোনাকে বিদায় বলেছেন কিন্তু ফুটবলকে তো নয়। আগামী মৌসুমগুলোয় ইনিয়েস্তার জাদু কোথায় দেখবে ভক্তরা? ইঙ্গিতটা দিয়ে রেখেছেন, ‘আমি বলেছি বার্সার বিপক্ষে কখনো খেলব না। সুতরাং ইউরোপে খেলব না আমি।’

ভালো মানুষ? দুঃখিত ইনিয়েস্তা, আপনার কথাটায় একটু ভুল আছে। মানুষ আপনাকে অসাধারণ একজন মানুষ হিসেবেই মনে রাখবে।

Print Friendly, PDF & Email