বিপিএল ফুটবলে রহমতগঞ্জের কাছে রাসেলের পরাজয়!

স্পোর্টস লাইফ, প্রতিবেদক :  ‘জায়ান্ট কিলার’ থেকে ধীরে ধীরে শক্তিশালী দলে পরিনত হচ্ছে রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটি। নিজেদের আর আন্ডারডগ বলতে রাজী নয় তারা।

প্রথম ম্যাচে মোহামেডানের সঙ্গে জিততে পারেনি দুর্ভাগ্যবশত (ফল ড্র)। তবে পরের ম্যাচে ঠিকই ঝলসে উঠলো তারা। ‘জেবি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ’ ফুটবলের (বিপিএল) আজ বৃহস্পতিবার (২৮জুলাই) খেলায় পুরনো ঢাকার এই ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি ২-০ গোলে হারিয়েছে লীগের অন্যতম ফেভারিট এবং ২০১২ লীগ চ্যাম্পিয়ন ও গত লীগের রানার্সআপ শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রকে।

চট্টগ্রামে রহমতগঞ্জের কোন নিজস্ব সমর্থক নেই। তবে বৃহস্পতিবারের ম্যাচে তাদের অন্তত একজন সমর্থককে পাওয়া গেছে। মধ্যবয়সী একে হুজুর। ম্যাচ শেষে তাকে দেখা গেছে নাচতে ও উল্লাস করতে। এখানেই শেষ নয়। গ্যালারির অন্য দর্শকদের তিনি বিলিয়েছেন চিপসের প্যাকেট (গ্যালারিতে মিষ্টি পাওয়া যায় না বলে এর বিকল্প চিপস)!

এই ম্যাচ দিয়েই শুরু হলো লীগের দ্বিতীয় রাউন্ডের খেলা। প্রথম রাউন্ডের ছয় ম্যাচের পাঁচটিই ড্র হয়েছিল। শেখ রাসেলের হারের মধ্য দিয়ে অনেকদিন পর আবারও জয়ের মুখ দেখতে পেল ফুটবলপ্রেমীরা। মজার ব্যাপারÑ প্রথম রাউন্ডের যে একটি ম্যাচে ফল নিষ্পত্তি হয়েছিল, তার সঙ্গেও জড়িয়ে আছে শেখ রাসেল। তারা নিজেদের প্রথম খেলায় রাসেল ০-১ গোলে অপ্রত্যাশিতভাবে হেরে গিয়েছিল পুঁচকে উত্তর বারিধারার কাছে।

শেখ রাসেলের সঙ্গে এর আগে না পারলেও বরাবরই তাদের যথেষ্ট বেগ দিয়েছে রহমতগঞ্জ। গত লীগে প্রথম সাক্ষাতে দু’দলের খেলাটি ১-১ গোলে ড্র হয়। দ্বিতীয় সাক্ষাতে অবশ্য বড় ব্যবধানেই জেতে রাসেল, ৪-০ গোলে। এই মৌসুমের শুরুর টুর্নামেন্ট স্বাধীনতা কাপেও ২-১ গোলে জেতে রাসেল। সর্বশেষ দ্বৈরথ ফেডারেশন কাপে। কোয়ার্টার ফাইনালে রাসেল জেতে অতিকষ্টে, ১-০ গোলে।

বলা যায় বৃহস্পতিবারের পুরো ম্যাচ খেললো রাসেল, আর জিতলো রহমতগঞ্জ।

ম্যাচ শেষে রহমতগঞ্জের কোচ কামাল বাবু বলেন, ‘৩ পয়েন্ট পেয়েছি। খুব খুশি। এই রাসেলের কাছেই স্বাধীনতা ও ফেড কাপে হেরে আউট হই। এজন্য ওদের হারিয়ে বেশি খুশি হয়েছি। যদিও আমরা খুব একটা ভাল খেলিনি । ওরাই বেশি ভাল খেলেছে। ২ বার ফর্মেশন পরিবর্তন করেছি। দলের ছয় ফুটবলার বিভিন্ন কারণে খেলেনি। তারপরও মনোবল হারাইনি। এটা পরের ম্যাচগুলোতেও ধরে রাখতে চাই।’

শেখ রাসেলের কোচ মারুফুল হক বিমর্ষ কণ্ঠে বলেন, ‘প্রথম ম্যাচে হারার পর ভেবেছিলাম এই ম্যাচ জিতে ঠিকই ঘুরে দাঁড়াতে পারবো। তা হয়নি। ম্যাচের ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ডমিনেট করেছি আমরাই। হারলেও হতাশ নই। এখনও অনেক ম্যাচ বাকি। আজকের খেলায় হেরেছি মনোযোগের অভাবে। খেলা ঠিক ছিল। ঘাটতি ছিল ফিনিশিংয়ে। দলের রিসোর্স যা আছে, তাই নিয়েই লড়তে হবে। চাপে পড়লেও এই চাপ সামলে বের হয়ে আসা সম্ভব।’

খেলার ৭৫ মিনিটে গোল করে এগিয়ে যায় রহমতগঞ্জ। ডান প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ করে তারা। কঙ্গো ফরোয়ার্ড সিও জুনাপিও ক্রস করেন। বক্সের ভেতর দাঁড়ানো মিডফিল্ডার মেহবুব হাসান নয়নের পায়ে গিয়ে বল পড়ে। উঁচু শট নেন তিনি। সেটা সাইডপোস্টে লেগে জালে জড়ায়। ঝাঁপিয়ে পড়েও বলের নাগাল পাননি রাসেলের গোলরক্ষক রাসেল মাহমুদ লিটন (১-০)।

যখনই মনে হচ্ছিল এই বুঝি সমতায় ফিরবে রাসেল, মঞ্চস্থ হবে আরেকটি নাটকীয় ‘ড্র’ ম্যাচ, তখনই ম্যাচের ৮৮ মিনিটে আরেকটি গোল করে সেই সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দেয় কামাল বাবুর শিষ্যরা। কর্নার পায় রহমতগঞ্জ। মিডফিল্ডার ফয়সাল আহমেদের করা কর্নারটি হেড করে ফিরিয়ে দেন রাসেলের আরেক মিডফিল্ডার মোনায়েম খান রাজু। সেই বল চলে যায় রহমতগঞ্জের ডিফেন্ডার আলাউদ্দিনের পায়ে। এক মূহূর্তও দেরি করেননি তিনি।

সচেষ্ট হন ‘হাফ চান্স’ কে কাজে লাগাতে। ডি-বক্সের ঠিক বাইরে থেকে অসাধারণ এক ভলি শট নেন। রাসেলের গোলরক্ষক রাসেল হতভম্ব হয়ে দেখলেন, বল তার পাশ দিয়ে চলে গেছে জালে। একটু নড়ারও সময় পেলেন না তিনি (২-০)। ততক্ষণে জয় নিশ্চিত হওয়াতে উল্লাসে মাতোয়ারা রহমতগঞ্জের খেলোয়াড়রা।

Print Friendly, PDF & Email