বিশ্বের কাছে প্রমাণ করেছি আমিই গ্রেটেস্ট : বোল্ট

স্পোর্টস লাইফডেস্ক :  শিরোনামটা নিজেই দিয়ে দিলেন উসাইন বোল্ট! টানা তৃতীয় অলিম্পিকে ‘স্প্রিন্ট ডাবল’ জয়ের অবিশ্বাস্য কীর্তির পরই ঘোষণা করলেন, ‘আমার আর কিছু করার বাকি নেই। বিশ্বের কাছে প্রমাণ করেছি যে, আমিই গ্রেটেস্ট। এটা করতেই আমি এখানে এসেছিলাম, সেটাই করে যাচ্ছি। আমার আর কিছু প্রমাণ করার নেই।’

আসলেই নেই। এক এবং অদ্বিতীয় তিনি আগেই হয়েছিলেন। তিন অলিম্পিকে দূরে থাক, টানা দুই অলিম্পিকে ‘স্প্রিন্ট ডাবল’ জয়ের কীর্তিও ছিল শুধু তাঁর একারই। সবার ওপরেই ছিলেন। আরও একটু ওপরে তুলে নিলেন নিজেকে, এই যা!একটু যদি আফসোস থেকে থাকে, তা হলো কথা রাখতে না পারার। নিজের বিশ্ব রেকর্ড ভেঙে ২০০ মিটার জিততে চেয়েছিলেন। সেটি না পারাতেই বোল্ট বুঝলেন, তাঁর বয়স হয়ে গেছে, ‘আমার পা কেন যেন চলছিল না। বুড়ো হয়েছি না! আমি তো আর এখন ২৬ বছরের নই, ২১ বছরের নই।’

সেটির প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে বোল্টের কথাবার্তাতেও। আমুদে স্বভাবটা তো আর যাওয়ার নয়। সংবাদ সম্মেলনে মজা করছেন এখানেও। তবে এথেন্স ও লন্ডন অলিম্পিকে বোল্টকে যাঁরা দেখেছেন, তাঁরাই শুধু বুঝবেন, সেই বোল্ট আর এই বোল্ট এক নন। কথাবার্তায় এখন অনেক বেশি পরিমিতিবোধ। নিজেকে ‘গ্রেটেস্ট’ দাবি করছেন, কিন্তু সর্বকালের সেরা অলিম্পিয়ান হিসাবে মাইকেল ফেল্‌প্‌সের সঙ্গে যখন তুলনার প্রসঙ্গ এলো, তাঁকে ঠিকই দিচ্ছেন প্রাপ্যটা। দুজন দুটি ভিন্ন খেলার লোক, তাই তুলনা করাটা কঠিন বলার পর ফেল্‌প্‌সের এত সব অর্জন সম্পর্কে প্রকাশ পাচ্ছে শ্রদ্ধা। যেটি আরও বেড়ে গেছে ফিরে আসার পরও ফেল্‌প্‌স নিজেকে যেভাবে সেরা বলে প্রমাণ করেছেন, সে কারণে ।

মন খুলে রুপাজয়ী আন্দ্রে ডি গ্রাসের প্রশংসা করলেন, ‘ও আমাকে হারাতে চেয়েছে। এটা আমার খুব ভালো লেগেছে।’ গ্রাসের দিকে তাকিয়ে একটা হাসি দিয়ে এরপরই যোগ করলেন ‘তবে আমি তরুণদের সব সময়ই বলি, “আমাকে হারাতে পারবে না।” আমি পিচ্চিপাচ্চার কাছে হারতে পছন্দ করি না।’

লন্ডনে ‘ডাবল ট্রিপল’ জয়ের পরই বলেছিলেন, তিনি চান লোকে তাঁকে মোহাম্মদ আলী আর পেলের সঙ্গে এক কাতারে রাখুক। এখন তো তাই রাখা উচিত, তাই না?

এ জন্যই এত বছর ধরে পরিশ্রম করে এসেছেন; সেরা হওয়ার জন্য, গ্রেটদের সঙ্গে এক কাতারে থাকার জন্য এত পরিশ্রম যে সফল হয়েছে, এই প্রশ্নটি করাতেই সেটির প্রমাণ পেয়ে গেলেন বোল্ট। তবে শেষ বিচারের ভারটা ছেড়ে দিলেন সংবাদমাধ্যম আর ফ্যানদের ওপর। ‘আমি এই অলিম্পিক শেষ হওয়া অপেক্ষা করে দেখতে চাই মিডিয়া আর ফ্যানরা আমাকে ওই দলে রাখে কি না’ বলেই দুষ্টুমির হাসি দিয়ে বললেন, ‘দেখি, আজ আর কাল আপনারা কী লেখেন!’
Print Friendly, PDF & Email