বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস র‌্যালিতে বাশার-গুল্লু-তাসকিন

স্পোর্টস লাইফপ্রতিবেদক আজ ২৮ জুলাই ২০১৬ বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশে, ন্যাশনাল লিভার ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে পালিত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডঐঙ) এর ১৯৪টি সদস্য রাষ্ট্র এবং ওয়ার্ল্ড হেপাটাইটিস এলায়েন্স (ডঐঅ) ২৩০টি পেশেন্ট অর্গানাইজেশন বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালন করছে।

দিবসটির প্রতিপাদ্য হচ্ছে, ঊখওগওঘঅঞওঙঘ বা হেপাটাইটিস নির্মূল। আজ থেকে বিশ্বব্যাপী ঘড়যবঢ় নামক আন্দোলন কর্মসূচী শুরু হলো, যাতে ২০৩০ সালে বিশ্বব্যাপী হেপাটাইটিস নির্মূল সম্ভব হবে এবং প্রায় ৭১ লক্ষ মানুষ এর জীবন রক্ষা পাবে। এটাই হবে আগামীর শ্রেষ্ঠ অর্জন (এৎবধঃবংঃ ধপযরাসবহঃ)। বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার ৪-৭% হেপাটাইটিস বি এবং প্রায় ১% হেপাটাইটিস সি রয়েছে। প্রায় ৩.৫% গর্ভবতী মায়েদের হেপাটাইটিস বি রয়েছে। এদের থেকে প্রতিনিয়ত ভাইরাস সমূহ নবজাতক, পরিবার, সমাজে এবং কর্মক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে সংক্রামিত হচ্ছে। যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এর প্রতিরোধের জন্য সচেতনতাই একমাত্র উপায়।

বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস ২০১৬ উপলক্ষ্যে, ন্যাশনাল লিভার ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে বিভিন্ন কার্যক্রম পালন করছে। এবার ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট এ দিবসটি একযোগে পালিত হচ্ছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য, ভ্রাম্যমাণ বুথ, সেমিনার (ডেইলিস্টার সেমিনার হল), ইউনিভার্সিটি সচেতনতামূলক প্রোগ্রাম, ফ্রি স্ক্রিনিং, টেলিভিশন ও রেডিও প্রোগ্রাম ও সংবাদপত্রে প্রবন্ধ প্রকাশ। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, বিশ্বের বাংলাভাষীদের জন্য বাংলায় প্রথমবারের মত ভাইরাল হেপাটাইটিস সচেতনতা এ্যাপস “ঐবঢ়ধঃরঃরং জানুন এবং ভাল থাকুন” প্রকাশ করেছে।

যা এড়ড়মষব চষধু ঝঃড়ৎব এ আজ থেকে পাওয়া যাবে। এতে বিশ্বের প্রায় ৩০০ মিলিয়ন বাংলাভাষী হেপাটাইটিস জানার এবং সতর্ক হওয়ার সুযোগ পাবে। দিবসটি উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মূল্যবান বাণী প্রদান করেছেন। ওয়ার্ল্ড হেপাটাইটিস এলায়েন্স এর প্রেসিডেন্ট, ন্যাশনাল লিভার ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ এর বিভিন্ন কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করে এবং দিবসটির সর্বাঙ্গীণ সফলতা কামনা করে বানী প্রদান করেছেন।

দিবসটি শুরু হয় ন্যাশনাল লিভার ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ এর বর্ণাঢ্য ভ্রাম্যমান ইনফরমেশন বুথ এর র‌্যালীর মাধ্যমে যা উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার, সাবেক ক্রিকেটার জাবেদ ওমর বেলিম, ক্রিকেটার তাসকিন আহমেদ এবং ন্যাশনাল লিভার ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ এর মহাসচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী।

ঢাকাশহরের বিভিন্ন পয়েন্টে এই ভ্রাম্যমান ইনফরমেশন বুথ এর মাধ্যমে ভাইরাল হেপাটাইটিস সচেতনতা লিফলেট প্রদান করা হবে। বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উপলক্ষ্যে ঢাকার ডেইলি স্টার সেন্টারে আয়োজন করা বিশেষ সেমিনার সেখানে উপস্থিত ছিলেন দেশবরেণ্য হেপাটোলজিস্ট, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজীস্ট ও হেপাটোবিালয়ারি প্যানক্রিয়াটিক সার্জন উপস্থিত ছিলেন । অনুষ্ঠানের মূলবক্তব্য পেশ করেন অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী, মহাসচিব , ন্যাশনাল লিভার ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ ।

তিনি তার বক্তব্যে বাংলাদেশে হেপাটাইটিস প্রতিরোধে করনীয় সম্পর্কে আলোকপাত করেন এবং বিশ্বব্যাপী ঘড়যবঢ় নামক আন্দোলন কর্মসূচীর সম্পর্কে অবহিত করেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী হেপাটাইটিস নির্মূল করার লক্ষ্যে এই কর্মসূচী হাতে নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে স্বাহত বক্তব্য দেন অধ্যাপক এম আনিসুর রহমান, যুগ্ম-মহাসচিব , ন্যাশনাল লিভার ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ অনুষ্ঠানের আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ফারুক আহমেদ, বিভাগীয় প্রধান, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজী বিভাগ, ঢাকা মেডিকের কলেজ, অধ্যাপক আবু সাঈদ, সাবেক বিভাগীয় প্রধান, মেডিসিন বিভাগ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ এবং ডাঃ মোঃ মহসিন কবির, সহকারী অধ্যাপক , গ্যাষ্ট্রোএন্টারোলজীস্ট ও ট্রেজারার, ন্যাশনাল লিভার ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ। অনুষ্ঠান টি সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল লিভার ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ এর ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ.কিউ.এম. মোহসিন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডঐঙ) এর গাইডলাইন অনুযায়ী বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারও বাংলাদেশে ভাইরাল হেপাটাইটিস এর সর্বাত্তক প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় একটি কার্যকরী (ঈড়সঢ়ৎবযবহংরাব ঠরৎধষ ঐবঢ়ধঃরঃরং ঝঃধঃবমু) গ্রহন করা অত্যন্ত জরুরী। হেপাটাইটিস ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’, ‘ডি’, ‘ই’ নামক ভাইরাস এর মধ্যে হেপাটাইটিস ‘এ’ এবং ‘ই’ সাধারনত: দূষিত পানি ও খাদ্য বাহিত, যা অনেক ক্ষেত্রে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য ভাল হয়ে যায়।

তবে কোন কোন ক্ষেত্রে মারাত্বক অবস্থা এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। হেপাটাইটিস ‘বি’ ও ‘সি’ রক্ত ও রক্তের উপাদান বাহিত ( হেপাটাইটিস ডি, হেপাটাইটিস বি এর সাথে সংযুক্ত থাকে) যা থেকে দীর্ঘমেয়াদী (ক্রনিক) হেপাটাইটিস, লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যান্সার হতে পারে। এদের প্রায় ৬০% থেকে ৭০% ক্ষেত্রেই শরীরে ভাইরাসের অবস্থান সর্ম্পকে জানে না। ভাইরাসদ্বয় অজ্ঞাতে নীরবে লিভারের মারাত্মক ক্ষতি সাধন করে।

তাই এই ভাইরাস সমূহকে নীরবঘাতক ( ঝরষহঃ করষষবৎং) বলা হয়ে থাকে। বিশ্বে প্রায় ৫০০ মিলিয়নেরও বেশী মানুষ হেপাটাইটিস ‘বি’ ও ‘সি’ ভাইরাসে আক্রান্ত। যার ফলে প্রতিদিন ৪০০০ মানুষ মৃত্যুবরণ করেন। আপনি নিজে সচেতন হউন। পরিবার ও জাতিকে সচেতন করতে এগিয়ে আসুন। ভাইরাল হেপাটাইটিস মুক্ত বাংলাদেশই হবে আগামীর সেরা অর্জন।

Print Friendly, PDF & Email