ভলিবলের উন্নয়ন ও সর্বশেষ আইন সবাইকে জানানোর জন্যই আমার এ প্রচেষ্টা : আনিসুর রহমান

হুমায়ুন সম্রাট :  মো: আনিসুর রহমান। জন্ম ১৯৪২ সালে বিক্রমপুরের লৌহজং এর ধাইদা গ্রামে। ভলিবলের সাথে যুক্ত হন সেই স্কুল জীবন থেকে। ভলিবলের সাথে এখনও আছেন এবং থাকবেন…।

তিনি একাধারে আন্তর্জাতিক ভলিবল রেফারী। স্বনামধন্য ক্রীড়া সংগঠক। বাংলাদেশ ভলিবল ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। হয়েছিলেন ফেডারেশনের সহসভাপতিও। ছিলেন বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের নির্বাহী সদস্য। ক্রীড়া লেখক, ভলিবল আইন সংক্রান্ত পুস্তক প্রণেতা।

চীন, ভারত, নেপাল, থাইল্যান্ড, পাকিস্তানসহ নানা দেশে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন কখনও রেফারী কখনও বা দলীয় কর্মকর্তা হিসেবে। ভলিবল কে তিনি ধারণ করেছেন মনের গহিনে। নান্দনিক ভলিবলকে তিনি বোঝার চেষ্টা করেছেন বার বার।

অন্যসব খেলার মত ভলিবল খেলারও আছে নিজেস্ব অনেক আইন কানুন। সেই আইন কানুন আবার পরিবর্তন হয় সময়ের সাথে সাথে এবং খেলাকে জনপ্রিয় করার প্রয়োজনে। দেশের ভলিবলের উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক ভলিবল ফেডারেশন কর্তৃক সর্বশেষ প্রকাশিত আইন কানুন সবার জানান জন্য মো: আনিসুর রহমান লিখেছেন “জনপ্রিয় ভলিবল” নামে বই। সুদৃশ্য প্রচ্ছদে মোড়া বইটি দেখা মাত্র আকৃষ্ট করে খেলাপ্রিয় মনকে।

এবারের প্রকাশিত বইটি নিয়ে তিনি মুখোমুখি হলেন স্পোর্টস লাইফ এর সাথে। শেয়ার করলেন বইটি লেখা ও প্রকাশের নানা অজ্ঞিতার কথা।

প্রশ্ন : জনপ্রিয় ভলিবল। আপনার এই বইটি কবে প্রকাশিত হলো? 
উত্তর : এই তো ২০১৬ সালের নভেম্বরে।

প্রশ্ন : আমরা জানি এটি আপনার ভলিবল নিয়ে লেখা আট নম্বর বই। আগের লেখা উল্লেখযোগ্য বইগুলো কী কী? 
উত্তর : হ্যা আগের সাতটি বইও ভলিবল নিয়ে খেলা। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো : ভলিবল খেলার আইন (২০০১), বিচ ভলিবল খেলার আইন (২০০২), ভলিবলের আইন কানুন (২০০৪), ভলিবল খেলার সর্বশেষ আইন (২০০৯ ১ম ও ২০১১ ২য় সংস্করণ), প্রশ্ন উত্তরে ভলিবল (২০১৩) ও উরন্ত ভলিবল দুরন্ত  খেলা (২০১৩)।

প্রশ্ন : আগের লেখা বই গুলোর চেয়ে এবারের বইয়ের আলাদা বৈশিষ্ট্য কী? 
উত্তর : এবারের জনপ্রিয় ভলিবল বইটি অন্য বই গুলোর চেয়ে বিশেষ ভাবে আলাদা। যেমন- প্রতি চার বছর পর ভলিবলে আইনে কিছু পরিবর্তন হয়ে থাকে। তাছাড়া সময়ের সাথে সাথে প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে অনেক কিছু। খেলাটিকে আরো আকর্ষনীয় করার জন্য বিভিন্ন টেকনোলজি ব্যবহার ভলিবলে শুরু হয়েছে। এই বইটিতে ভলিবল ও বিচ ভলিবল দুই ফরমেটের সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ভলিবল ফেডারেশন কর্তৃক ঘোষিত আইন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সাথে যুক্ত করা হয়েছে আইন বাস্তবায়নে খুটিনাটি ব্যাখ্যা। বইটিতে আরো পাওয়া যাবে ভলিবল ও বিচ ভলিবলের ইতিহাস।

প্রশ্ন : ভলিবল নিয়ে বই খেলার ভাবনাটা এলো কীভাবে? 
উত্তর : আমি ভলিবলের সাথে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গিয়েছি কর্মকর্তা ও আন্তর্জাতিক রেফারি হয়ে। বিভিন্ন দেশে ভলিবলের উপর অনেক আইন-কানুনেন বই দেখেছি। যেটা আমাদের দেশে ছিল না। অনেক দিন মনের মধ্যে ভলিবলের উপর বাংলাতে লেখা বইয়ের অভাব অনুভব করেছি। সেই অনুভতি ও অভাব বোধের জায়গা থেকেই আমার ভলিবল নিয়ে লেখা শুরু।

প্রশ্ন : ভলিবল এর উপর লেখা বই গুলো থেকে কী ধরনের সাড়া পাচ্ছেন?
উত্তর : মুটামুটি ভালোই বলতে পারেন। এই বইটি যারা ক্রীড়া শিক্ষক হিসেবে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা ক্লাবে বা জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে খেলাধুলার সাথে জড়িত তাদের বেশ উপকারে আসবে। কারণ এটি ভলিবলের সর্বশেষ আইন কানুন নিয়ে লেখা। ছাত্র-ছাত্রী ও খেলোয়াড়দের ভলিবলের আইন জানার জন্য বইটি বেশ প্রয়োজনীয় হবে। তাই অনেকেই বইটি সংগ্রহ করছেন।

প্রশ্ন : ব্যাপক ভাবে বইটি প্রচারের ক্ষেত্রে কী করছেন?
উত্তর : এ ব্যাপারে আমার ভুমিকা খুব সীমিত। কারণ টাকা দিয়ে আইনের বই কিনে খুব কম লোক জ্ঞান অর্জন করতে চায়। বইটি সম্পর্কে বেশ কয়েকবার ফেসবুকে জানিয়েছি।

প্রশ্ন : বইটি সংগ্রহ করার উপায় কী?
উত্তর : কেউ যদি বইটি সংগ্রহ করতে চাই তাহলে আমার সাথে যোগাযোগ (০১৭১১৯৫৮৯৭১) করলে সংগ্রহ করতে পারবে। বইটির মূল্য ধরা হয়েছে মাত্র দুইশত টাকা।

প্রশ্ন : সারা দেশেই যেহেতু ভলিবল খেলা হয়ে থাকে তাই সবার তো সর্বশেষ আইনটা জানাও দরকার, সেক্ষেত্রে বইটি ক্রীড়া সংস্থা গুলোতে পাঠানোর কোন ভাবনা আছে কী?
উত্তর : আমিতো চাই সারাদেশে যারা ভলিবলের সাথে জড়িত খেলোয়াড়, কোচ ও সংগঠক সবারই জানা প্রয়োজন সর্বশেষ ভলিবলের আইন কানুন। তা না হলে খেলার মাঠে আইন কানুন জানার অভাবে অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তাই সকল খেলার উপর লেখা আইন কানুনের বই সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ক্রীড়া ফেডারেশনের। তবে এ ব্যাপারে ক্রীড়া লেখক ও ক্রীড়া সাংবাদিকগণ খেলাধুলার উপর লেখা যে কোন বইয়ের প্রচারে ভুমিকা রাখতে পারে তাদের লেখার মাধ্যমে।

প্রশ্ন : আগে লেখা কয়েকটি বই তো প্রকাশনীর মাধ্যমে বিক্রয় করেছিলেন আমরা জানি। এবার তা করলেন না কেন?
উত্তর : দেখুন সবাই আর্থিক দিক বিবেচনা করে। খেলার সাথে জড়িত থাকলেও টাকা দিয়ে খুব কম লোক বই কিনে। আর প্রকাশক দেখে কোন বই বেশি ছাপলে তার মুনাফা ভাল হবে। যেহেতু খেলাধুলার উপর লেখা আইন কানুন এর বই কম চলে তাই পূর্বের অজ্ঞিতা থেকে এবার বই নিজ উদ্দেগ্যে প্রকাশ করেছি।

প্রশ্ন : এবারের জনপ্রিয় ভলিবল বইটিতে বিশেষ কী কী বিষয় রয়েছে?
উত্তর : বিশ্ব ভলিবলের নতুন চিন্তা ভাবনার প্রতিফলন, ভলিবলে প্রযুক্তির ব্যবহার, আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা, মাঠ ও উপকরণ কীভাবে ব্যবহার করা হবে তার উপর এ বইয়ে আলোকপাত রয়েছে। তারপর খেলা চলাকালিন সময়ে রেফারীদের ভুমিকা, দায়িত্ব ও কর্তব্য বিশদভাবে ব্যাখা করা হয়েছে। এছাড়া বিচ ভলিবল বিশ্বের সাড়া জাগানো একটি জনপ্রিয় খেলা। আমাদের দেশে এর প্রচলন শুরু হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এখনও অনেক কিছু করার রয়েছে। এ বইয়ে সেসব বিষয়ে গাইড লাইন দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

প্রশ্ন : ভলিবল নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
উত্তর : আমি এরই মধ্যে বাংলাদেশের ভলিবলের ইতিহাস নিয়ে লেখা শুরু করেছি। এটি হবে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায়। কারণ হলো আমি চাই বাংলাদেশের ভলিবলের ইতিহাসটা দেশের মানুষের পাশাপাশি বিশ্বের লোকও জানুক। তাই বইটি দুই ভাষাতে প্রকাশিত করা হবে। সবাই দোয়া করবেন আমি যেন বইটি ভালোভাবে দেশের মানুষকে উপহার দিতে পারি।

Print Friendly, PDF & Email