ভিসার নিশ্চয়তা না পেলে ভারতে বিশ্বকাপ চায় না পাকিস্তান

স্পোর্টস লাইফ, ডেস্কধৈর্যের বাঁধ ভাঙতে বসেছে পাকিস্তানের। মার্চ পর্যন্ত সময় বেধে দিয়েছে পিসিবি। এই সময়ের মধ্যে ভারতে যেতে পাকিস্তানের ক্রিকেটার, সমর্থক, সাংবাদিক ও কর্মকর্তাদের ভিসা ও নিরাপত্তার লিখিত নিশ্চয়তা না পেলে নতুন ভেন্যুতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজনের দাবি তুলবে তারা।

করোনাভাইরাসের প্রার্দুভাবে গত বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পিছিয়ে দেওয়া হয়। আইসিসির নতুন সূচিতে এখন পরপর দুই বছর হবে এই সংস্করণের দুটি বিশ্বকাপ। আগামী অক্টোবর-নভেম্বরে ভারতের মাটিতে একটি, পরের বছর একই সময়ে অস্ট্রেলিয়ায় অন্যটি।

প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের যা সম্পর্ক তাতে ভিসা জটিলতায় পড়ার শঙ্কা আগে থেকেই করে আসছে পিসিবি। তাই চাইছে ভারত সরকারের লিখিত নিশ্চয়তা। লাহোরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পিসিবি চেয়ারম্যান এহসান মানি জানান, আইসিসির ‘হোস্ট এগ্রিমেন্ট’ অনুযায়ীই এই দাবি করেছেন তারা।

“আমাদের সরকার কখনও বলেনি আমরা ভারতে খেলতে পারব না। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার ব্যাপারে আমরা আইসিসির সঙ্গে একমত হয়েছি আর এখন কথা লঙ্ঘন করতে পারি না। আইসিসিকে পরিষ্কার বলে দিয়েছি, আমরা ভারত সরকারের কাছ থেকে লিখিত নিশ্চয়তা চাই। কেবল দল ও খেলোয়াড়দের জন্য নয়, আমাদের ভিসা প্রয়োজন সমর্থক, সংবাদকর্মী ও বোর্ড কর্তাদের জন্যও। এগুলো সবই আইসিসির ‘হোস্ট এগ্রিমেন্ট’ এ পরিষ্কার বলা আছে এবং সে অনুযায়ীই আমরা দাবি করেছি।”

“এক জায়গায় আইসিসি কথা রাখতে পারেনি। তারা বলেছিল ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ভিসা সমস্যা সমাধান হবে, কিন্তু হয়নি। আমি জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে আইসিসি চেয়ারম্যানের কাছে সরাসরি বিষয়টি উত্থাপন করেছি। পরে আইসিসি ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে কথা বলেছি এবং তাদের বলেছি, আমি মার্চের মধ্যে পরিষ্কার একটি সিদ্ধান্ত চাই। তারা সময় নিয়েছে মার্চের শেষ পর্যন্ত। এর মধ্যে যদি না হয়, আমি দাবি করব আসরটি ভারত থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে সরিয়ে নেওয়ার জন্য।”

ভারতে হওয়া ২০১৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলেছিল পাকিস্তান। সেই ম্যাচই ছিল দেশটির মাটিতে পাকিস্তানের শেষ ম্যাচ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে আরও।

এর প্রভাব পাকিস্তানি অ্যাথলেটদের ওপরও পড়েছে। ২০১৯ সালে দিল্লিতে হওয়া শুটিং বিশ্বকাপে পাকিস্তানের শুটারকে ভিসা না দেওয়ায় ভারতকে সাময়িক নিষিদ্ধ করে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি। পরে সরকার অংশগ্রহণকারী সবার ভিসার নিশ্চয়তা দিলে তা উঠিয়ে নেওয়া হয়।

ক্রিকেটের ক্ষেত্রেও আইসিসির এমন হস্তক্ষেপ চান মানি। তার মতে, ক্রিকেটকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখা উচিত।

Print Friendly, PDF & Email