মাশরাফি-ঝড়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২৩৮

স্পোর্টস লাইফ, প্রতিবেদক : সিরিজে টিকে থাকতে গেলে জয় ছাড়া কোনও পথ নেই। এমন সমীকরণ সামনে রেখে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচ হেরে শুরু করার চাপটা নিতে পারেনি বলেই কিনা অনেক দিন পর ব্যাটিংয়ে বিপর্যস্ত টাইগাররা। এর পরও ৫০ ওভার শেষে ৮ উইকেটে ২৩৮ রান যে করতে পেরেছে, তা ওই মাহমুদউল্লাহর অসাধারণ হাফসেঞ্চুরির সঙ্গে শেষ দিকে মাশরাফি বিন মর্তুজার ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে। অনেক দিন পর একাদশে সুযোগ পাওয়া নাসির হোসেনও জবাব দিয়েছেন নির্বাচকদের আস্থার।

অথচ বাংলাদেশের স্কোর ২০০ হবে কিনা, সেটাই একটা ছিল গভীর সংশয়ে। ১৬৯ রান তুলতেই যে হারিয়েছিল ৭ উইকেট। সেখান থেকে দলকে এত দূর পর্যন্ত নিয়ে গেছেন মাশরাফি। লোয়ার অর্ডারের থাকা ব্যাটসম্যানরা রান পান না, এ নিয়ে আগের ম্যাচে আলোচনা হয়েছিল খুব। বাংলাদেশ অধিনায়ক নিজেও জানিয়েছিলেন, নিচ দিকের ব্যাটসম্যানরা সাহায্য না করলে জেতা কঠিন হয়ে যাবে। দায়িত্বটা তাই নিজের কাঁধেই নিলেন মাশরাফি। ইংলিশ বোলারদের ওপর দিয়ে ঝড় বইয়ে দিয়ে ২৯ বলে ২ চার ও ৩ ছ্ক্কায় করেছেন ৪৪ রান। যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন নাসির। দীর্ঘদিন পর একাদশে জায়গা পাওয়া নাসির অপরাজিত ছিলেন ২৭ রানে।

তাদের আগে ব্যর্থতার ভিড়ে আলাদা ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। ৩৯ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া বাংলাদেশের হাল ধরেন তিনি। এক প্রান্ত আগলে রেখে পূরণ করেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৬তম হাফসেঞ্চুরিও। সেঞ্চুরির আশাও জাগিয়েছিলেন তিনি। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরির দিকে এগোচ্ছিলেনও মাহমুদউল্লাহ। চাপ কাটিয়ে বাংলাদেশও ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল, সেই সময়েই আদিল রশিদের আঘাতে ফিরে যান মাহমুদউল্লাহ। এলবিডাব্লিউ হয়ে আউট হয়েছেন তিনি ৭৫ রান করে।

তিনি ছাড়া টপ অর্ডারের আর কোনও ব্যাটসম্যানই মেলে ধরতে পারেননি নিজেদের। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান ইমরুল কায়েস ফেরেন শুরুতেই। ক্রিস ওকসের বলে ডেভিড উইলির হাতে ধরা পড়েন ১১ রানে। তার পর পরই ওই ওকসের শিকার হয়ে তামিম ইকবালও (১৪) পথ ধরেন প্যাভিলিয়নে। দুই ওপেনারকে হারানোর চাপটা আরও বড় আকার ধারণ করে সাব্বির রহমান আউট হলে।

ব্যাটিং অর্ডার বদল করেও ব্যর্থ তিনি, মাত্র ৩ রান করে বোল্ড হয়ে ফেরেন জেক বলের শিকার হয়ে। ওই বিপর্যয়টা কাটিয়ে উঠার ইঙ্গিত দিয়েছিল মাহমুদ-মুশফিকের জুটি। মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে জুটিটা দাঁড়ও করিয়ে ফেলেছিলেন মুশফিক। তাতে নিজের চেনা ছন্দে ফেরারও ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। যদিও ইনিংসটা বড় করতে পারেননি তিনি। ২১ রান করে ফিরে গেছেন প্যাভিলিয়নে। জেক বলকে পুল করতে গিয়ে ফাইন লেগে ধরা পড়েন মঈন আলীর হাতে। বাংলাদেশ হারায় চতুর্থ উইকেট।

খানিক পর তার পথ ধরেন সাকিব আল হাসানও। ফর্মের তুঙ্গে থাকা এই অলরাউন্ডার আউট হয়েছেন বাজে বলে। বেন স্টোকসের বলটা ওয়াইড হতো নিশ্চিত, অথচ সেই বলটাই খোঁচা মেরে উইকেটরক্ষক জশ বাটলারের গ্ল্যাভসে ধরা পড়েন তিনি ৩ রান করে। মোসাদ্দেক হোসেন অবশ্য আগের ম্যাচের হতাশা ঝেরে সাবলীল ব্যাটিংয়ে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বড় ইনিংস খেলার। শুরুটাও হয়েছিল ভালো, যদিও ২৯ রান করে দুর্বল শটে ফেরেন প্যাভিলিয়নে। এর পরই মাশরাফির সেই ঝোড়ো ইনিংস।

Print Friendly, PDF & Email