‘মিস্টার ইউনিভার্স ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ’-এ বডিব্লিডার হাসিবের বাজিমাত

স্পোর্টস লাইফ, প্রতিবেদক : প্রথম বারেরমত সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত ‘মিস্টার ইউনিভার্স ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ’ বডিবিল্ডিং চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিয়ে বাজিমাত করলেন বাংলাদেশের হাসিব হলি। তার সাফল্যে যে বাইরের জগতে বাংলাদেশের নাম উজ্জল হয়েছে সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। 

ছাড়ার আগে হাসিব জানিয়ে গিয়েছিলেন, ‘৫০তম এই আসরে ৫০ দেশের অসংখ্য বিশ্বমানের বডিবিল্ডার অংশ নিচ্ছে। লক্ষ্য হবে প্রথম থেকে ষষ্ঠ স্থানের মধ্যে থাকা।’ কথা রেখেছেন ২৬ বছর বয়সী হাসিব হলি।

সিঙ্গাপুর অনুষ্ঠিত ‘মিস্টার ইউনিভার্স ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ’-এ অংশ নিয়ে ভাল ফল করে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। বিচ মডেল ম্যানস্ ফিজিক ক্যাটাগরিতে ১৬ জনের মধ্যে ষষ্ঠ স্থান অধিকার করেছেন তিনি।

উল্লেখ্য, বিজয়ীদের নাম ঘোষণার সময় বিচারকরা সেরা ছয় জনকেই মঞ্চে ডেকে নেন, তবে পুরস্কৃত করেন প্রথম তিন জনকে। সে অনুযায়ী হলির এই অর্জন বেশ আশাব্যঞ্জবকএবং কৃতিত্বপূর্ণই বলতে হবে। মিস্টার ইউনিভার্স প্রতিযোগিতা এই প্রথম এশিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়। এবং প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে এই আসরে অংশ নেন হলি।

এই আসরে হলি এ্যাথলেটিক বডিবিল্ডিং ক্যাটাগরিতেও অংশ নেন (উচ্চতা : ১৬৫-১৭০ সে.মি., ওজন : ৭০-৮০ কেজি)। তবে এই ক্যাটাগরিতে প্রত্যাশিত সাফল্য পাননি তিনি।

তবে ফিজিক ক্যাটাগরিতে অংশ নিয়ে এই ফলে বেশ সন্তষ্টই হলি, ‘এই আসরে সারা বিশ্বের সেরা বডিবিল্ডাররা অংশ নেয়। তারা অনেক অভিজ্ঞ। আমার লক্ষ্য ছিল সেরা ছয়ে থাকা। সেই লক্ষ্য পূরণ হওয়ায় বেশ খুশি লাগছে। তার মানে আমি সঠিক পথেই আছি।’

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে জাতীয় বডিবিল্ডিং চ্যাম্পিয়ন ‘মিস্টার বাংলাদেশ’ খ্যাত হলি বডিবিল্ডিংয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে প্রথমবার (এখন পর্যন্ত একমাত্র) স্বর্ণপদক এনে দেন এই সিঙ্গাপুরের মাটি থেকেই, ২০১৭ সালে, নাব্বা ডব্লিউএফএফ এ্যামেচার এশিয়ান বডিবিল্ডিং প্রতিযোগিতায়। তাছাড়া তিনি বাংলাদেশের প্রথম লেভেল এ্যাডভান্সড সার্টিফাইট ট্রেনারও বটে।

আর্নল্ড শোয়ার্জনিগারের মতো সেলিব্রেটি ‘মিস্টার ইউনিভার্স ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ’-অংশ নিয়েছেন। সেই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার স্বপ্ন দেখেন বিশ্বের সব বডিবিল্ডারই। হাসিব হলিও তাই।

একেবারে নিজের প্রচেষ্টায় বিশ্বমানের এই আসরে অংশ নিতে হলি প্রস্তুতি নিয়েছিলেন প্রায় আট মাস ধরে। এক্ষেত্রে তার ব্যক্তিগত খরচ হয়েছে প্রায় আট লাখ টাকা। তার সেই বিনিয়োগ যে কিছুটা হলেও সফল হয়েছে, ষষ্ঠ হওয়াটাই তার প্রমাণ।

Print Friendly, PDF & Email