মুক্তিযোদ্ধাকে হারালো রাসেল, পেশাদার লীগে অ-পেশাদার কাণ্ড!

স্পোর্টস লাইফ, প্রতিবেদক  বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ ফুটবলে বুধবার (১৫নভেম্বর) অনুষ্ঠিত দিনের প্রথম খেলায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র কে ১-০ গোলে হারায় শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র লিমিটেড।

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে এই খেলার প্রথমার্ধের স্কোরলাইন ছিল অবশ্য গোল শূণ্য।

এদিন শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র নতুন জার্সি পড়ে মাঠে নামে। কিন্তু এর ফলে ভীষণ ঝামেলা পোহাতে হয় গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের। কেননা জার্সির নম্বর চেনা দুস্কর হয়ে পড়ে। নীল-সাদা জার্সির পিঠে নম্বর বসানো হয় লাল রংয়ের। কিন্তু সাদা-নীলের আধিক্যে লাল রং সংবলিত জার্সি নম্বর কেউই পড়তে পারছিলেন না!

এখানেই শেষ নয়। আরও আছে। পেশাদার লীগ দাবী করা হলেও বিভিন্ন ক্লাব কর্মকর্তাদের অভিযোগ এবং বাফুফের বিভিন্ন কর্মকান্ডে অপেশাদারিত্ব স্পষ্ট। প্রথম লেগেও ক্লাবগুলোর প্লেয়ার লিস্টে ছিল অসংখ্য ভুল। এ বিষয়ে প্রচুর সংবাদও প্রচার করেছেন গণমাধ্যম কর্মীরা। তবে বাফুফের উদাসীনতা কাটেনি।

বুধবার শেখ রাসেল বনাম মুক্তিযোদ্ধার ম্যাচে প্লেয়ার লিস্ট এ চোখ যেতেই চক্ষু ছানাবড়া। মুক্তিযোদ্ধার প্রথম একাদশে খেলছেন দুই গোলরক্ষক! এ কি করে সম্ভব? কিন্তু প্লেয়ার লিস্ট এ তো এমনটাই দেয়া আছে! গোলরক্ষক হিসেবে একাদশে উত্তম বড়ুয়া আর সৈকত মাহমুদ মুন্নাকে দেখানো হয়েছে।

যাহোক, বুধবারের এই জয়ে ১২ ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে উঠে আসলো শেখ রাসেল। পক্ষান্তরে সমান ম্যাচে মাত্র ৭ পয়েন্ট নিয়ে ১২ দলের মধ্যে একাদশ স্থানে আছে মুক্তিযোদ্ধা। প্রথম লেগেও শেখ রাসেলের কাছে ৩-০ গোলে হেরেছিলো মুক্তিযোদ্ধা।

সকাল থেকে বৃষ্টির কারণে ভেজা মাঠে কিছুটা খেলতে সমস্যায় পড়তে হয় ফুটবলারদের। উভয় দলের ফুটবলারদের খেলা ছিল ছন্নছাড়া। প্রথমার্ধে দুই দলই একাধিক আক্রমণ করে। তবে মধ্যমাঠের দখলটা কেউই সেভাবে নিতে পারেনি। এছাড়াও ভাল ফিনিশারের অভাব দু’দলেই ছিল।

২৩ মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে সতীর্থের উদ্দেশ্যে বাড়ান রাসেলের এক খেলোয়াড়। কিন্তু বক্সে বল বুঝে নিতে পারেননি মিসরিয় ফরোয়ার্ড জ্যাকি সারহান। এবারের মৌসুমেই প্রথম লেগে মুক্তিযোদ্ধার জার্সি গায়ে খেলেছেন জ্যাকি সারহান। তবে দ্বিতীয় লেগে রাসেলে নাম লিখিয়ে প্রথম ম্যাচটাই খেলতে নামেন মুক্তিযোদ্ধার বিপক্ষে!

২৯ মিনিটে মিডফিল্ডার খালেকুরজামানের কর্নার বক্সে উত্তম বণিক কিক নেবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই ছিলো প্রথমার্ধের মতো একাধিক ভুল পাসের ছড়াছড়ি। দ্বিতীয় লেগে উভয় দলই নতুনভাবে গুছিয়ে নিয়েছে নিজেদের। কিন্তু হয়তো দলীয় বোঝাপড়ার অভাব ছিলো। ৪৫ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে সবুজের বাড়িয়ে দেয়া বল হেড করেও বলের নাগাল পাননি জ্যাকি সারহান।

৫২ মিনিটে নাজমুল ইসলাম রাসেলের পাসে বক্সে বল নিয়ে ঢুকে পড়েন রাসেলের জ্যাকি। শটও নেন। কিন্তু পরাস্ত করতে ব্যর্থ হন এই ফরোয়ার্ড। ৫৪ মিনিটে রাইট উইং ব্যবহার করে আক্রমণে যান মুক্তির ফরোয়ার্ড সৈকত ভৌমিক। ডিফেন্ডার উত্তম কুমার বণিক বাধা দিলে কর্নার আদায় করে নেন সৈকত।

৬৯ মিনিটে বা প্রান্ত থেকে দারুণ একটা ক্রস পেয়ে বক্সে ব্যক হেডে মুক্তি গোলরক্ষক উত্তম বড়ুয়াকে পরাস্ত করেন রাসেলের অধিনায়ক ডিফেন্ডার উত্তম কুমার বণিক (১-০)।

৮০ মিনিটে ইনডাইরেক্ট ফ্রি কিক পায় মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু গোলের সহজতম সুযোগটি হাতছাড়া করেন সৈকত মুন্না। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে শেখ রাসেল।

Print Friendly, PDF & Email