মোস্তাফিজের বাজে দিনে মুম্বাইয়ের প্রথম জয়

স্পোর্টস লাইফ, ডেস্কআইপিএলের গত তিন ম্যাচে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। তার ব্যক্তিগত সাফল্য ম্লান হয়েছিল দলের হারের কারণে। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স টানা তিন ম্যাচই হেরেছিল। অবশেষ প্রথম জয়ের দেখা পেল তার দল ৪৬ রানে। কিন্তু বাজে একটা দিন কাটালেন বাঁহাতি পেসার।

মোস্তাফিজ উইকেটশূন্য তো ছিলেনই, রানও দিয়েছেন হাত খুলে। ৪ ওভারে ৫৫ রান দিয়েছেন বাংলাদেশের এই বাঁহাতি পেসার। তার বিবর্ণ দিনে বল হাতে ক্রুনাল পান্ডিয়া, জশপ্রীত বুমরাহ ও মিচেল ম্যাকক্লেনাঘান জ্বলে উঠেছিলেন।

টানা তিন হারের পর মুম্বাইয়ের এই জয়ের ভিত অবশ্য গড়ে দেন রোহিত শর্মা। তার দারুণ এক ইনিংসে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে ২১৪ রানের টার্গেট দেয় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। জবাবে বিরাট কোহলি ঝড় তুললেও পারেননি জেতাতে। ৮ উইকেটে ১৬৭ রানে থামে বেঙ্গালুরু।

আগের ম্যাচে রাজস্থান রয়্যালসের সানজু স্যামসন, এবার মুম্বাইয়ের রোহিতের কাছে নতজানু হতে হয়েছে বেঙ্গালুরুকে। বোলিং বিভাগ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়তেই হচ্ছে কোহলিদের। এই আইপিএলের ১৪টি ম্যাচ শেষে শীর্ষ দুটি দলীয় স্কোরই যে তাদের বিপক্ষে। সানজুর অপরাজিত ৯২ রানে বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে ২১৭ রান করেছিল রাজস্থান। মঙ্গলবার রোহিতের দুর্দান্ত ইনিংসে মুম্বাই করেছে ৬ উইকেটে ২১৩ রান।

অথচ বোলিংয়ে দুর্দান্ত শুরু হয়েছিল বেঙ্গালুরুর। মঙ্গলবার টস জিতে ফিল্ডিং নিয়ে প্রথম দুই বলে দুটি উইকেট পায় তারা। সূর্যকুমার যাদব ও ইশান কিষাণকে বিদায় করে হ্যাটট্রিকের সুযোগ পান উমেশ যাদব। কিন্তু রোহিত লেগ বাই নিয়ে ব্যর্থ করেন বেঙ্গালুরু পেসারকে।

শুধু উমেশ নয়, প্রতিপক্ষের সব বোলারদের ওপর রোহিত চড়াও হন এভিন লুইসকে নিয়ে। ১০৮ রানের দারুণ এক জুটিতে বেঙ্গালুরুর শুভ সূচনা মাটি করে দেন দুজন। ৩২ বলে ৬ চার ও ৩ ছয়ে ৫০ রান করা লুইস আউট হন ৬৫ রানে, বল খেলেছেন ৪২টি।

এরপর ক্রুনাল পান্ডিয়া (১৫) ও কিয়েরন পোলার্ডের (৫) সঙ্গে ৪০ ও ৩০ রানের দুটি জুটি গড়েন রোহিত। তিনিও ৩২ বলে হাফসেঞ্চুরি করেন। হার্দিক পান্ডিয়াকে নিয়ে শেষ দিকে ১০ বলে ২৯ রানের ঝড়ো জুটিতে দলের স্কোর ২০০ পার করেন মুম্বাই অধিনায়ক। সেঞ্চুরি থেকে ৬ রান দূরে থাকতে আউট হন রোহিত। অবশ্য ৫২ বলে ১০ চার ও ৫ ছয়ে সাজানো তার ৯৪ রান এখন এই আইপিএলের সেরা স্কোর।

উমেশের সমান কোরি অ্যান্ডারসন দুটি উইকেট নেন। 

চতুর্থ ম্যাচে মুম্বাইয়ের গড়া রানের পাহাড়ে উঠতে গিয়ে বারবার হোঁচট খেয়েছে বেঙ্গালুরু। ম্যাকক্লেনাঘানের জোড়া আঘাতে কুইন্টন ডি কক (১৯) ও এবি ডি ভিরিয়ার্সকে (১) হারায় তারা। এরপর একপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থেকে কোহলি কেবল দেখেছেন ব্যাটসম্যানদের আসা যাওয়া। ক্রুনাল পান্ডিয়া তার টানা দুই ওভারে তিন উইকেট নেন। মনদীপ সিং ও কোরি অ্যান্ডারসনকে ফিরিয়ে তো হ্যাটট্রিকের সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি।

জশপ্রীত বুমরাহও তার এক ওভারে দুই ব্যাটসম্যানকে ফেরান। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়ায় মুম্বাইয়ের বিশাল রান তাড়া করতে ব্যর্থ হয় বেঙ্গালুরু। কোহলি ৬২ বলে ৭ চার ও ৪ ছয়ে ৯২ রানে অপরাজিত ছিলেন। ক্রুনাল সবচেয়ে বেশি ৩ উইকেট নেন। ম্যাকক্লেনাঘান ও বুমরাহ পান দুটি করে উইকেট।

৪ ম্যাচে প্রথম জয়ে ২ পয়েন্ট নিয়ে বেঙ্গালুরুকে (২) টপকে ছয় নম্বরে মুম্বাই। 

Print Friendly, PDF & Email