রাজার মত ফেডারেশন কাপ শুরু করলো বসুন্ধরা কিংস

স্পোর্টস লাইফ, প্রতিবেদক ফেডারেশন কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু হয়েছে ২৭ অক্টোবর থেকে। তবে টুর্নামেন্টের আকর্ষণীয় ম্যাচটি হয়েছে তৃতীয় দিনে এসে। 

সোমবার (২৯অক্টোবর) ২০১৮ একদিকে তারকা সমৃদ্ধ নবাগত বসুন্ধরা কিংস। অন্যদিকে ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ৫-২ গোলের জয় দিয়ে এবারের ফেডারেশন কাপে রাজসিক সূচনা করলো বসুন্ধরা কিংস। 

মাঝারি মানের দল নিয়েও এদিন ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান প্রসংশা কুড়িয়েছে তাদের পারফরম্যান্সের জন্য। যদি না ৭২ মিনিটে তকলিস আহমেদের ভুলে ১০ জনের দলে পরিণত হতো,তাহলে হয়তো জয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে পারতো সাদা-কালোরা।

১৮ মিনিটে ম্যাচে লিড নেয় মোহামেডান। বক্সে ঢুকে একজনকে কাটিয়ে মাইনাস করেন মোহামেডানের নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড এনকোচা কিংসলে । বল বসুন্ধরার এক খেলোয়াড়ের পায়ে লেগে চলে যায় ল্যান্ডিং ডার্বোয়ের কাছে। ফাঁকা পোস্টে ঠান্ডা মাথায় প্লেসি শটে বল জালে জড়ান গাম্বিয়ান এ মিডফিল্ডার (১-০)।

এর ঠিক দুই মিনিট পর গোল পরিশোধের সুযোগ এসেছিলো বসুন্ধরার। বক্সের বেশ কাছ থেকে ব্রাজিলিয়ান  মার্কোস ভিনিসিয়াসের ফ্রি কিক পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ম্যাচে মূল আকর্ষন ছিলো রাশিয়া বিশ্বকাপ খেলা ড্যানিয়েল কলিনড্রেস।

দর্শকদের হতাশ করেননি কোস্টারিকান এ তারকা। পুরো মাঠ জুড়ে যেমন দাপিয়ে বেড়িয়েছেন তেমনি অসাধারণ ফুটবল শৈলী উপহার দিয়েছেন।

২৩ মিনিটে বল নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন বসুন্ধরার ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার মার্কোস ভিনিসিয়াস। কিন্তু বক্সে পড়ে গিয়ে পেনাল্টি পাবার আশায় অতিরিক্ত ভান করে হলুদ কার্ড দেখেন।

২৮ মিনিটে পেনাল্টি পায় বসুন্ধরা। মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে বক্সের মধ্যে ফেলে দেন মিন্টু শেখ। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। স্পট কিকে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান কলিনড্রেস (১-১)।

৩৮ মিনিটে বক্সে বল পেয়েও গোলের সুবর্ন সুযোগ হাতছাড়া করেন মোহামেডানের তকলিস। ৪৩ মিনিটে নিশ্চিত গোল মিস করেন মার্কোস।

কলিনড্রেসের নিখুত পাসে বক্সের মধ্যে বল পান মার্কোস। কিন্তু গোলরক্ষক বরাবর বল মেরে সুযোগ নষ্ট করেন এ ব্রাজিলিয়ান।

৬৫ মিনিটে বসুন্ধরার বক্সে বল নিয়ে ঢুকে পড়েন এনকোচা। গোল নিশ্চিত বুঝতে পেরে তাকে অবৈধভাবে বাধা দেন গোলরক্ষক মিতুল হাসান। পেনাল্টির নির্দেশ দেন রেফারী। ল্যান্ডিং ডার্বোয়ের শট জড়ায় জালে (২-১)।

আবারো এগিয়ে যায় সাদা-কালোরা। কিন্তু তাদের সেই উচ্ছাস বেশিক্ষণ স্থায়ী থাকেনি। কারণ ৭১ মিনিটে ম্যাচে আবারো সমতা আসে। গোল করেন বসুন্ধরার স্পেনিশ ডিফেন্ডার জর্জ গোটর ব্লাস (২-২)।

এর এক মিনিট পর দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন মোহামেডানের তকলিস। ফলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় সাদা-কালোরা। আর এরপরই বদলে যেতে থাকে ম্যাচের চিত্র।

যে মোহামেডান প্রায় পুরো ম্যাচ জুড়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলো। তারাই কিনা একের পর এক গোল হজম করতে থাকে। ৭৮ মিনিটে বা প্রান্ত দিয়ে একক প্রচেষ্টায় বল নিয়ে বক্সে ঢুকে বা পায়ের শটে দারুণ এক গোল উপহার দেন বসুন্ধরার মতিন মিয়া (৩-২)।

ইনজুরি টাইমে কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানেই দুই গোল হজম করে মোহামেডান। বল নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন কলিনড্রেস। সুযোগ ছিলো গোল করার। কিন্তু নিজে গোল না করে সতীর্থ মার্কোসকে গোল করার সুযোগ করে দেন।

বল জড়িয়েছেন সাদা-কালোদের জালে (৪-২)। এর কয়েক সেকেন্ড পরই আবারো বসুন্ধারার গোল সেই একই কম্বিনেশন। কলিনড্রেস-মার্কেসে ভর করে জয় নিশ্চিত করে ঘরোয়া ফুটবলের নবশক্তি বসুন্ধরা কিংস (৫-২)। 

অসাধারণ খেলার জন্য ম্যাচ সেরার পুরস্কারটাও পেয়ে যান ড্যানিয়েল।  

Print Friendly, PDF & Email