রুপো জিতে স্বেচ্ছামৃত্যুর পথ থেকে সরে এলেন মারিক!

স্পোর্টস লাইফডেস্ক : দুটো আলাদা সময়। অথচ জীবনের মানে দুই সময়ে আলাদা!‌ সময়ের সরণিতে হাঁটতে হাঁটতে জীবনের চড়াই–উতরাই বোঝা যায়। অমানুষিক শারীরিক যন্ত্রণার দিনগুলো ছিল বিভীষিকাময়। সহ্যের বাইরে চলে যাচ্ছিল। চরমতম সিদ্ধান্তটা নিয়েই ফেলেছিলেন।

স্বেচ্ছামৃত্যু!‌ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে সইও করে ফেলেছিলেন। সেই তিনিই এখন এই পৃথিবীর আলো, হাওয়া প্রাণভরে উপভোগ করতে চান। তিনি বেলজিয়ামের প্রতিবন্ধী অ্যাথলিট মারিক ভারভুর্ত। শিরদাঁড়ার দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত তিনি। হাঁটাচলা করতে পারেন না। সর্বদা সঙ্গী হুইলচেয়ার।

পিঠের যন্ত্রণার চোটে একটা সময় ছিল, যখন রাতে ১০ মিনিটের বেশি ঘুমোতেই পারেন না। বেলজিয়ামে স্বেচ্ছামৃত্যু আইনসিদ্ধ। তাই মারিক বাঁচতে না চাওয়ার আবেদনপত্রে সই করে ফেলেছিলেন ২০০৮ সালে। সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে জীবনের ভাল দিনগুলো আর দেখাই হত না বছর ৩৭–এর মারিকের।

২০১২ লন্ডন প্যারালিম্পিকে পদক পাওয়ার পর জীবনকে নতুন করে চিনেছিলেন মারিক। আর শনিবার রাতের পর সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছেন, থেমে যাওয়া নয়, জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই হবে তাঁর কাজ।

কী ঘটেছে শনি–রাতে?‌ রিও প্যারালিম্পিকের আসরে ৪০৯০ মিটারে (‌টি ৫২)‌ রুপো জিতেছেন বেলজিয়ান মারিক। এই রুপোই তাঁর জীবনে ফেলেছে সোনার আলো। মারিক বলে দিয়েছেন সাংবাদিকদের, ‘‌বিরাট ভুল হয়ে যেত। এখন আর ওই সিদ্ধান্ত (‌স্বেচ্ছামৃত্যু)‌ মানার মানেই হয় না। খুব খারাপ দিনেও নয়।’‌

২০০০ সালে মারিকের এই রোগ ধরা পড়ে। প্যারালাইসিসের শিকার হন তিনি। পরে একসময় হুইলচেয়ার বাস্কেটবল খেলতেন। ২০০৭–এ একটি বড় প্রতিযোগিতাতেও অংশ নেন মারিক। কিন্তু পরের বছরই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। যন্ত্রণায় তখনই সিদ্ধান্ত নেন.‌.‌.‌। তার পর?‌

হাল ছাড়েননি। ট্রেনিং নেওয়ার সময় শরীরের যন্ত্রণা আরও বেড়ে যেত। তবুও দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই চালিয়েছেন মারিক। দূরে সরিয়ে রেখেছেন সব যন্ত্রণা, ভয়। তাই তো তিনি আজ জয়ী।

মারিক বলেছেন, ‘‌আগামী কাল গাড়ি দুর্ঘটনায় মৃত্যু হতে পারে। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হতে পারে। তাই আগামী কালের কথা না ভেবে একদিন, প্রতিদিন বাঁচতে হবে। উপভোগ করতে হবে ছোট ছোট মুহূর্তগুলো।’‌‌‌

Print Friendly, PDF & Email