রোমাঞ্চকর ম্যাচের অপেক্ষায় দুই দল

স্পোর্টস লাইফডেস্ক : পরপর দুই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কাছে ধরাশায়ী হয় ইংলিশরা। মুখোমুখি লড়াইয়ে সর্বশেষ চার ম্যাচের তিনটিতেই জিতেছে বাংলাদেশ। এতেই বোঝা যাচ্ছে বাংলাদেশের ক্রিকেটের চিত্রনাট্যটা কতটা বদলেছে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান বাংলাদেশকে অনেকখানিই এগিয়ে রাখছে। এ কারণে ঘরের মাঠে পাকিস্তান-ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে রোমাঞ্চকর ক্রিকেটের পর- আবারও একটি উত্তেজনাকর সিরিজে নামতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

মাশরাফি অবশ্য নিজেদের ফেবারিট হিসেবে দেখছেন না কোনও ভাবেই। যদিও টাইগারদের চোখে-মুখে ক্ষীপ্রতা! ইংলিশ ক্রিকেটাদের নিজেদের কন্ডিশনে বাগে পেয়ে ক্ষত-বিক্ষত করার অভিপ্রায় তাদের চোখে। এদিকে ইংলিশ অধিনায়ক জস বাটলার এই কন্ডিশনে নিজেদের আন্ডারডগ হিসেবে মেনেই নিলেন!

গত বিশ্বকাপের পর এবারই প্রথম ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে বেলা আড়াইটায় শুরু হবে দিবারাত্রির ম্যাচটি। জিটিভি ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে।.

১৬ বারের মুখোমুখি লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ৩ বার হারিয়েছে ইংল্যান্ডকে,  বাকি ১৩টি ম্যাচে জয় পেয়েছে ইংল্যান্ড। এই পরিসংখ্যান হিসেব করলে ঢের পিছিয়ে টাইগাররা। তবে গত দেড় বছরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে ইংল্যান্ড-বাংলাদেশ কেউই কারোর চেয়ে পিছিয়ে নয়। কেননা গত দেড় বছর ধরেই দুই দল দারুণ ক্রিকেট খেলছেন।

২০১৪ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত দেশের মাটিতে ২০ ওয়ানডে ম্যাচ খেলে ১৭টিতে জয় পেয়েছে টাইগাররা। আর পাকিস্তান-ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকার মতো বাঘা বাঘা দলকে নাস্তানাবুদ করা টাইগারদের আত্মবিশ্বাস সর্বোচ্চে থাকাটাই স্বাভাবিক। তারপরও মাশরাফি নিজেদের ফেবারিট ভাবতে রাজি নন।

বরং নিজেদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সটাই ধরে রাখতে চান তিনি, ‘আমাদের প্রতিটি সিরিজ থেকে আমাদের অবস্থান ও পারিপার্শ্বিকতা যদি চিন্তা করেন, আমরা এখন ভালো খেলছি। আমাদের কাজ এখন ধারাবাহিকতা ধরে রাখা। আমাদের কাছে প্রতিটি সিরিজই গুরুত্বপূর্ণ। এখানে আমরা ফেবারিট নাকি ওরা ফেবারিট সেইসব বিষয় আসছে না। আমরা আমাদের সেরা ক্রিকেটাই খেলতে চাই।’.

যদিও ইংলিশ অধিনায়ক জস বাটলার বাংলাদেশকেই এগিয়ে রাখলেন। নিজেদের কন্ডিশনে টাইগারদের পারফরম্যান্সকে সমীহ করছেন তিনি। এমনকি আন্ডারডগ তকমা নিয়ে সিরিজ খেলতেও আপত্তি নেই তার, ‘হতে পারে বাংলাদেশ ঘরের মাটিতে নিজেদের কন্ডিশনে এবং ওয়ানডে সিরিজগুলোতে তাদের সাম্প্রতিক সাফল্যে খুবই শক্তিশালী। আমরা আন্ডারডগ হয়ে নামলেও সেটা নিয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তা নেই, সেটা হয়তো আমাদের সঙ্গে ভালোভাবেই খাপ খেয়ে যায়।’

মাশরাফি অবশ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেটের জন্য দলের সিনিয়র খেলোয়াড়দের দায়িত্ব নিতে বলেছেন, ‘সিনিয়রদের ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যত ম্যাচ জিতেছি, সিনিয়ররা ভালো খেলেছে বলেই জিতেছি। আমাদের এমন কজন তরুণ ক্রিকেটার আছে, যারা নিজেদের দিনে যে কোনো কিছুই করতে পারে। আমি তাদের নিয়েও আশাবাদী।’

২০১১ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের নায়ক দুইজনই থাকছেন একাদশে। এটা মোটামুটি নিশ্চিত। ইমরুলের সম্ভবনাটা আরও বেড়ে গেছে প্রস্তুতি ম্যাচে সেঞ্চুরি করার কারণে। ওপেনিংয়ে তামিমের সঙ্গী হতে পারেন তিনি। সেক্ষেত্রে একাদশের বাইরে থাকবেন দীর্ঘদিন ফর্মহীনতায় ভোগা সৌম্য সরকার।

২০১১ বিশ্বকাপে বল হাতে ১ উইকেট নিলেও বাংলাদেশের জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন পেসার শফিউল। কেননা তার অপরাজিত ২৪ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংসেই জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। তারও থাকার সম্ভবনা রয়েছে মূল একাদশে।

একটি পরিবর্তন ছাড়া দলে আর কোনও পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। ফলে পেসার আল-আমিন হোসেন ও নাসির হোসেনকে সাইডবেঞ্চে বসতে হতে পারে। ইংল্যান্ড দলে জ্যাসন রয়ের ওপেনিং পার্টনার হতে পারেন জেমস ভিন্স। আর অভিষেক হতে পারে তরুণ অলরাউন্ডার বেন ডাকেটের।

এদিকে শুক্রবারের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে বিকালে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এক্ষেত্রে টস জয়টা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে দুই দলের জ

Print Friendly, PDF & Email