শিশিরে স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের

স্পোর্টস লাইফ, প্রতিবেদক প্রথমে সংশয়টা তৈরি করেছিল বৃষ্টি। অবশ্য সেটি দূর হয় ম্যাচের আগেই। গত তিন দিনের ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হঠাৎই উধাও! আবহাওয়ার এই ‘শুভ বুদ্ধির উদয়ে’ সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছিলেন বাংলাদেশের দর্শকেরাই। ‘ফাইনালে’ রূপ নেওয়া সিরিজের শেষ ম্যাচটা অবশেষে হয়েছে। কিন্তু কে জানত, বৃষ্টি নয়, বাংলাদেশের মুখ থেকে হাসি কেড়ে নেবে শিশির!

টসে কালও ভাগ্যের ছোঁয়া পাননি মাশরাফি বিন মুর্তজা। ইংল্যান্ড টসে জিতে নেয় ফিল্ডিং। অধিনায়ক জস বাটলারের সিদ্ধান্ত যথার্থ প্রমাণ করেন দুই ইংলিশ স্পিনার আদিল রশিদ ও মঈন আলী। বাংলাদেশের ৬ উইকেটের ৫টিই পেয়েছেন এই দুজন। এর মধ্যে আদিলের ৪টি। ইংলিশ স্পিনারদের টার্ন দেখে সাকিব-নাসিরদের চোখ নিশ্চয়ই চকচক করেছে তখন। বাংলাদেশের ২৭৭ রান স্বাভাবিকভাবেই মনে হয়েছে জয়ের জন্য যথেষ্ট!

কিন্তু সব ভুল প্রমাণ হয়েছে ইংল্যান্ডের ব্যাটিংয়ের সময়। দ্রুতই পাল্টেছে উইকেটের আচরণ। বাংলাদেশের স্পিনারদের নির্বিষ বোলিংয়ে প্রশ্ন জেগেছে, এই উইকেটেই কি বোলিং করেছে ইংল্যান্ড? বাংলাদেশ কেন উইকেট থেকে সুবিধা নিতে পারেনি? ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফির ব্যাখ্যা, ‘আজ (কাল) যেমন উইকেট ছিল, শিশিরের কারণে স্পিনাররা কোনো টার্ন পায়নি। এ কারণে পেসারদের দিয়েই বোলিং করাতে হয়েছে। ব্যাটিং ওদের জন্য খুব সহজ হয়ে গিয়েছে; অথচ যেটি ওদের খুব কঠিন হওয়ার কথা ছিল। এখানে ২৭৭ অনেক বড় স্কোর। যতটুকু শিশির পড়েছে, তার অর্ধেক পড়লেও ম্যাচ অন্য রকম হতো।’

পরে ব্যাটিং করা দলকে শিশির কতটা এগিয়ে দেয়, সেটির উদাহরণ দিতে মাশরাফি টেনে আনলেন গত বছর জুলাইয়ে চট্টগ্রামেই দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের শেষ ম্যাচটি, যেটিতে বাংলাদেশ জিতেছিল ৯ উইকেটে। এমন পরাজয়ে অবশ্য ভাগ্যকেই দুষছেন অধিনায়ক, ‘দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে শেষ ম্যাচটা আমরা এখানে জিতেছিলাম একই ধরনের উইকেটে। আজও একই অবস্থা। প্রথমে উইকেট টার্ন ছিল, ব্যাটে বল ভালো আসছিল। ইংল্যান্ড অবশ্যই ভালো খেলেছে, খুব ভালোভাবে পরিস্থিতি সামলেছে। আমাদের দুর্ভাগ্য, এই ম্যাচে স্পিনাররা নিজেদের বোলিংটা করতে পারেনি।’

Print Friendly, PDF & Email