শিহরণ জাগানো দিনটা বাংলাদেশেরই

স্পোর্টস লাইফ, প্রতিবেদক টেস্টের সাথে কেমন যেন আলস্য জড়িয়ে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশের টেস্টের সাথে নয়! চট্টগ্রামের পর ঢাকা টেস্টের দুই দিন দেখে এই কথা মেনে নেবেন যে কেউ। বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড টেস্ট থেকে যে চোখ সরানোই দায়!

প্রথম দিনে উইকেট পড়ল ১৩টি। দ্বিতীয় দিনে ১০টি। দুই দলের ২ ইনিংস শেষ। তৃতীয় ইনিংস চলছে। প্রথম দিনে প্রথম ইনিংসে বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা ছিল বাংলাদেশের। ভৌতিক ব্যাটিংয়ে ২২০ রানে শেষ তারা! আবার ওই শেষ বিকেলে ৩ উইকেট তাদের বোলারদেরই! পরের সকালে ৬৯ রানে ৫ উইকেট। ১৪৪ রানে ৮! মনে হলো এই ঘূর্ণিতে লিড নিতে যাচ্ছে স্বাগতিকরা। কিন্তু লেজের দাপটে নবম উইকেটেই ইনিংস সর্বোচ্চ ৯৯ রান ইংল্যান্ডের! ২৪৪ রানে শেষ হয়ে লিড ২৪ রানের।

আবার মাত্র ৫.১ ওভারে দ্বিতীয় ইনিংসে লিড নিয়ে নেয় বাংলাদেশ। সীমিত ওভারের ক্রিকেটের উত্তেজনা থাকে দিনের শেষ সেশন জুড়ে। এবং শনিবার মিরপুরে দ্বিতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ১৫২ রান বাংলাদেশের। ৩১ ওভারের এক সেশনে! লিড ১২৮ রানের। মাত্র দুই দিনের মধ্যে কোনো টেস্ট ম্যাচে এত উত্তেজনা কোথায় পাবেন!

প্রথম দিন শেষে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছিল না ওটা আসলে কাদের। দ্বিতীয় দিন শেষে ঠিক বলা যাচ্ছে এটা বাংলাদেশের। যে উইকেটে দ্বিতীয় ইনিংসে স্পিনারদের সামনে খাবি খেলেন সেরা সেরা ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা, সেখানে চতুর্থ ইনিংসে কি করবে তারা! আর বাংলাদেশের লিডটা যদি আড়াই শ-তিন শ হয়ে যায়! এই যে সম্ভাবনা ও শঙ্কার কথা বলা হলো, তারও কোনো ঠিক নেই।

কারণ, বাংলাদেশের টেস্ট চোখের পলকে রূপ পাল্টাতে জানে। এই ম্যাচ ৫ দিনে যাবে না। ড্র হবে না। চার দিনেই কেল্লা ফতে। কার ঘরে যাবে তাও অনিশ্চিত। এবং দিনের শেষ বলে এই যে মাহমুদ উল্লাহ ৪৭ রানে আউট হয়ে গেলেন এটাও কি এই ম্যাচের চরিত্রের সাথে খুব মানিয়ে যাওয়ার নয়! ৫৯ রানের ইনিংস নিয়ে তৃতীয় দিনের অপেক্ষায় ইমরুল কায়েস।

প্রথাগত টেস্টের মনযোগী দর্শকরা বলতেই পারেন এই টেস্ট এখন বাংলাদেশের হাতে। তারাই চালক। কিন্তু প্রথম ইনিংসে ৪৯ রানে স্বাগতিকদের ৯ উইকেট হারানোর কথা ভুলে গেলে কি আর চলে। ঢাকাতেও উইকেটটায় ইংলিশরা দাঁড়াতে পারছিলেন না।

দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতে তাই আক্রমণকে অস্ত্র বানিয়েছিলেন তামিম ইকবাল, ইমরুল, মাহমুদ উল্লাহরা। ইংলিশদের গোটা ইনিংসে চারের মার ১৭টি। সেখানে এর মধ্যে এই তিন ব্যাটসম্যান মিলে ২০ বাউন্ডারি মেরে ফেলেছেন। তামিমের ৪৭ বলের ৪০ রানে ৭ চারের মার। ইমরুলের ৮১ বলের ইনিংসে ৮টি বাউন্ডারি। মাহমুদ উল্লাহর ৫৭ বলে ৫ বাউন্ডারি।

৫৫ বলে ৫০ রান আসে উদ্বোধনী জুটিতে। সেটি ভাঙে ১২.৫ ওভারে ৫.০৬ গড়ে ৬৫ রান তোলার পর। ৩ বলের মধ্যে তামিম ও মুমিনুল হক (০) আউট। জোড়া ধাক্কা। তখন আর বাকি দিনের ১৭.৫ ওভার। ইমরুল ও মাহমুদ উল্লাহ রান নেহাত কম করেননি। ৪.৮২ গড়ে ৮৬ রানের জুটি।

সেট হয়ে খেলার দিকে মন না দিয়ে ব্যাটসম্যান শিকারী উইকেটে খেলতে খেলতে সেট হওয়ার দিকে মন ছিল প্রত্যেকের। আর তাতে সফলই বলতে হবে। বাংলাদেশের দর্শক হিসেবে আক্ষেপ করতে পারেন দিনের শেষ বলে মাহমুদ উল্লাহর বিদায়ে। কিন্তু ম্যাচের চরিত্রের সাথে বেমানান তো নয় ওই বিদায়!

Print Friendly, PDF & Email