শ্বাসরূদ্ধকর লড়াইয়ে লিভারপুলকে হারাল ম্যানইউ

স্পোর্টস লাইফ, ডেস্ক : ম্যাচে হলো তিনটি গোল। জয় পরাজয় নির্ধারণ হলো ২-১ গোলে; কিন্তু গোল তিনটিই করেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। লিভারপুল গোলই করতে পারেনি। তবে, ম্যানইউর এরিক বেইলি নিজেদের জালে বল জড়িয়ে দিলে একটি গোল শোধ হয় লিভারপুলের। তবে এরিক বেইলি আত্মঘাতি গোল করলেও ম্যানইউর খুব বেশি সমস্যা হয়নি। কারণ, এই গোলের আগেই জোড়া গোল করে বসেছিলেন মার্কাস রাশফোর্ড।

রাশফোর্ডের জোড়া গোলে লিভারপুলের বিপক্ষে শ্বাসরূদ্ধকর ম্যাচে ২-১ গোলের ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। এই জয়ের ফলে পয়েন্ট টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে নিজেদের অবস্থান আরও নিরঙ্কুশ করলো ম্যানইউ। লিভারপুলের সঙ্গে তাদের ব্যবধান বাড়লো ৫ পয়েন্টের। ম্যাচ হারলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে যেতো লিভারপুল। কারণ, ম্যাচের আগে ২ পয়েন্টের ব্যবধান ছিল দুই দলের। ৩০ ম্যাচ শেষে ম্যানইউর পয়েন্ট ৬৫। লিভারপুলের ৬০। শীর্ষে থাকা ম্যানসিটির পয়েন্ট ২৯ ম্যাচে ৭৮।

এক সময় ছিল, এই দুই দলের লড়াই মানে সারা ইংল্যান্ডই নয় শুধু, সারা ফুটবল বিশ্বই উত্তেজনায় কাঁপতো। কিন্তু ধীরে ধীরে দুই দলই জৌলুস হারিয়েছে। লিভারপুল তো বহু আগেই। ম্যানইউর জৌলুস হারিয়ে গেছে স্যার আলেক্স ফার্গুসন চলে যাওয়ার পরই। ফার্গির বিদায়ের পর এখনও পর্যন্ত শিরোপার নাগাল পায়নি রেড ডেভিলরা। এর মধ্যে নামকরা অনেক কোচই এসেছে ম্যানইউর ডাগআউটে।

তবুও ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে লিভারপুলের বিপক্ষে ম্যাচটি দেখতে উত্তেজনার কমতি ছিল না। প্রায় ৭৫ হাজার দর্শকের সমাগম ঘটেছিল। ইনজুরির কারণে এই ম্যাচে ছিলেন না পল পগবা। তার পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পান রাশফোর্ড। সেই সুযোগেরই দারুণ সদ্ব্যাবহার করলেন তিনি। অন্যদিকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পোর্তোর বিপক্ষে খেলা একাদশে ৫ পরিবর্তন নিয়ে ম্যানইউর বিপক্ষে মাঠে নামে লিভারপুল।

টান টান উত্তেজনার ম্যাচের শুরুতেই কি না জোড়া গোল করে বসলেন ম্যানইউর মার্কাস রাশফোর্ড। খেলার ১৪ মিনিটে রোমেলো লুকাকু অসাধারণ গোলের সুযোগটি তৈরি করে দেন মার্কাস রাশফোর্ডকে। হেড করে বলটি লুকাকু পাস দেন। ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার আরনল্ডকে পাস করে গিয়ে বলের নিয়ন্ত্রন নিয়ে অসাধারণ ফিনিশিং এনে দেন রাশফোর্ড।

এর ঠিক ১০ মিনিট পর আবারও গোল। এবারও রোমেলু লুকাকুর কাছ থেকে বল পেলেন রাশফোর্ড। লুকাকু ফ্লিক করে বল দিলেন রাশফোর্ডকে। আলতো ছোঁয়ায় লিভারপুলের জালে বল জড়িয়ে দিলেন তিনি। খেলার ৬৬ মিনিটে সাদিও মানে বল ক্রস করেন পোস্টের সামনে। সেখানে ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে দেন এরিক বেইলি। ডেভিড ডি গিয়া চেষ্টা করেও বলটি থামাতে পারলেন না।

Print Friendly, PDF & Email