শ্যুটিং ইভেন্টের বিভাগীয় পর্বের বাছাই কার্যক্রম সমাপ্ত

স্পোর্টস লাইফ, প্রতিবেদক বাংলাদেশের জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে শ্যুটিং ক্রীড়া পরিচালনার মত শ্যুটিং রেঞ্জ ও অবকাঠামোগত সুযোগ সুবিধা এখনও গড়ে উঠেনি। তাই বাংলাদেশ শ্যুটিং স্পোর্ট ফেডারেশন বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের সাথে আলোচনা করে চলমান বাংলাদেশ যুব গেমস ২০১৮ এর শ্যুটিং ডিসিপ্লিনের জেলা ও বিভাগীয় বাছাই কার্যক্রম গুলশান শ্যুটিং রেঞ্জে আয়োজন করে।

শুক্রবার (৯মার্চ) গুলশানে অবস্থিত বাংলাদেশ শ্যুটিং স্পোর্ট ফেডারেশনের রেঞ্জে বিভাগীয় তরুন ও তরুনীদের পয়েন্ট ১৭৭ ওপেন সাইট এয়ার রাইফেল এর চূড়ান্ত বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। বিভাগীয় এ বাছাই কার্যক্রমে মোট ১৫২জন তরুন-তরুনী অংশ গ্রহন করে। প্রতিটি বিভাগ হতে মোট ৪জন সর্বোচ্চ স্কোর করা (দুজন তরুন ও দুজন তরুনী) শ্যুটার গেমসের চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। উল্লেখ্য চট্টগ্রাম বিভাগের বাছাই কার্যক্রম আগেই সম্পন্ন করেছে ফেডারেশন।

তরুনদের গ্রুপে খুলনা বিভাগের সাতক্ষীরা রাইফেল ক্লাবের এসএম ফয়েজ হোসেন (২৩১ স্কোর) ও ঝিনাইদহ রাইফেল ক্লাবের অন্তর সরকার (২১১ স্কোর), স্বাগতিক ঢাকা বিভাগ হতে গুলশান শ্যুটিং ক্লাবের ফজলে রাব্বী (২৩৮ স্কোর) ও নারায়গঞ্জ রাইফেল ক্লাবের এসএম সাজ্জাদ হায়দার (২১২ স্কোর), রাজশাহী বিভাগ হতে পাবনা রাইফেল ক্লাবের মো: মেহেদী হাসান লিমন (২৩৫ স্কোর) ও একই ক্লাবের আলী হাসান (২২৯ স্কোর), বরিশাল বিভাগে পিরোজপুর রাইফেল ক্লাবের মো: এমরান খান শান্ত (২৪০ স্কোর) ও একই ক্লাবের এমরান হোসেন (২১৭ স্কোর), ময়মনসিংহ বিভাগ হতে নেত্রকোনা রাইফেল ক্লাবের ফারদিন মো: অর্নব (২২৪ স্কোর) ও ময়মনসিংহ রাইফেল ক্লাবের সাদমান আহমেদ তাসিন (৬০ স্কোর), রংপুর বিভাগে পঞ্চগড় রাইফেল ক্লাবের ফারহান ইসতিয়াক শাফিন (১৩৪ স্কোর) ও একই ক্লাবের মাহামুদুল হাসান (৬৬ স্কোর) চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে।

এদিকে তরুনীদের গ্রুপে খুলনা বিভাগের কুষ্টিয়া রাইফেল ক্লাবের ছামান্তা রহমান ঐশি (২০৮ স্কোর) ও যশোর রাইফেল ক্লাবের জুলেখা আক্তার (১৮৭ স্কোর), ময়মনসিংহ বিভাগ হতে ময়মনসিংহ রাইফেল ক্লাবের তানজিলা রেজা (১৬ স্কোর), রাজশাহী বিভাগ হতে পাবনা রাইফেল ক্লাবের সুমাইয়া তাসনিম রিফা (২০৪ স্কোর) ও বগুড়া রাইফেল ক্লাবের শিল্পা রায় (১৮৬ স্কোর), ঢাকা বিভাগ হতে গুলশান শ্যুটিং ক্লাবের লুবাবা সাফি (২২০ স্কোর) ও নারায়নগঞ্জ রাইফেল ক্লাবের মাহমুদা খানম সৃষ্টি (১৯৬ স্কোর), এবং বরিশাল বিভাগ হতে পিরোজপুর রাইফেল ক্লাবের জিন্নাত কবির সুচনা (২৩৬ স্কোর) ও পটুয়াখালী রাইফেল ক্লাবের মাইসা রহমান (২৩১ স্কোর) গেমসের চূড়ান্ত পর্বে নাম লেখায়।

বাংলাদেশ যুব গেমস ২০১৮ প্রসঙ্গে ফেডারেশনের মহাসচিব ইন্তেখাবুল হামিদ অপু বলেন, বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের যুব গেমসের এই উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। আমি চাইবো এই গেমসটা যেন নিয়মিত আয়োজন করা হয়। আর যদি এর ধারাবাহিকতা না থাকে তাহলে এই যুবকরাই হারিয়ে যাবে। এসএ গেমস, এশিয়ান গেমস, কমনওয়েলথ গেমস, ইয়ুথ অলিম্পিক ও অলিম্পিক গেমসে ভাল করার জন্য এই যুব গেমসটা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখতে পারে। আমি মনে করি এই যুব গেমস হতে অনেক ভাল খেলোয়াড় বেরিয়ে আসবে এবং এখান থেকে বাছাই করা মেধাবী শ্যুটারদের যদি দীর্ঘ মেয়াদী প্রশিক্ষণ দেয়া হয় তাহলে আমার বিশ^াস আগামীতে বড় বড় প্রতিযোগিতায় আমরা ফলাফল করতে সক্ষম হবো। আর আমরা এই বাছাই প্রক্রিয়াটা জেলা ও বিভাগে করতে পারিনি তার কারণ হলো ওসব জায়গাতে শ্যুটিং রেঞ্জ নেই এবং কারও অস্ত্র আছে কারও নেই। তাছাড়া ছেলে-মেয়েরা পয়েন্ট কিভাবে হয় তা ঠিকমত জানে না। তাই সব কিছু বিবেচনা করে আমরা বিওএ এর সাথে আলাপ করে জেলা ও বিভাগীয় বাছাই কার্যক্রমটা ঢাকাতে আয়োজন করি। 

Print Friendly, PDF & Email