হকিকে বিদায় জানালেন মামুনুর রহমান চয়ন

স্পোর্টস লাইফ, ডেস্কদৃশ্যটা আজীবন মনে রাখবেন মামুনুর রহমান চয়ন। নিজের দলের খেলোয়াড়দের কাছ থেকে তো বটেই, দক্ষিণ কোরিয়ার খেলোয়াড়দের কাছ থেকেও পেলেন গার্ড অব অনার। একজন খেলোয়াড়ের জীবনে যা অনেক বড় প্রাপ্তি।

দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাঁর এক যুগের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন। তবে শেষটা স্মরণীয় হলো না। দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৭-০ গোলে হেরে জাকার্তা এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ পঞ্চম হওয়ার স্বপ্নটা আর পূরণ করতে পারেনি। তবে ষষ্ঠ হয়ে ১৯৭৮ সালের পর এই প্রথম এশিয়াডে সেরা ফল করল বাংলাদেশ।

আসলে দক্ষিণ কোরিয়া ম্যাচটা ছিল উপলক্ষ। কারণ, ম্যাচে বাংলাদেশের হার নিয়ে ছিল না কোনো সংশয়। ম্যাচের প্রথম থেকেই চারবারের এশিয়াড চ্যাম্পিয়ন কোরিয়ার দাপটে হাফ লাইনের ওপরেই আসতে পারছে না বাংলাদেশ। সবাই বরং একতরফা ম্যাচটা শেষ হওয়ার অপেক্ষাই করছিল চয়নের অবসরের আনুষ্ঠানিকতার জন্য।

ম্যাচ শেষ মাত্রই বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন থেকে চয়নকে দেওয়া হলো বিদায়ী স্মারক। দুই দলের খেলোয়াড়েরা বিদায়ী শুভেচ্ছা জানান এই সময়। চলে গার্ড অব অনার। তাতে যোগ দিয়েছেন কোরিয়ার খেলোয়াড়েরা। বাংলাদেশের একজন খেলোয়াড় বিদায় ম্যাচে এমন সম্মান পেতে পারেন, ভাবাই কঠিন। কারণ, বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক বিদায় নেওয়ার সংস্কৃতিই বলতে গেলে নেই।

চয়ন ব্যতিক্রম। মুসা মিয়ার পর চারটি এশিয়ান গেমস খেলার তৃপ্তি নিয়েই খুলে রাখলেন লাল-সবুজ জার্সি। বিদায়বেলায় বলে গেলেন, ‘ক্যারিয়ারে কোনো অতৃপ্তিই নেই।’ বারবার বলছিলেন, ‘আমি সব পেয়েছি হকি খেলে। এখন আমার পাওয়ার কিছু নেই। আমি তৃপ্ত।’

তবে আন্তর্জাতিক হকিকে বিদায় বললেও ঘরোয়া হকি খেলে যাবেন ৩০ বছর বয়সী চয়ন। গত এক যুগে যিনি পেনাল্টি কর্নার বিশেষজ্ঞ হিসেবে বাংলাদেশ দলকে গোল এনে দিয়েছেন ৬০-৭০টি। জাতীয় দলের অধিনায়ক ছিলেন। রাসেল মাহমুদ জিমির মতো প্রচার পাননি, এটা তাঁর দুর্ভাগ্যই। তবে জিমি-চয়ন নাম দুটিই তো লোকে বেশি চেনে।

বাংলাদেশের হকির মুখ হয়ে উঠেছেন এই দুজন। ২০১৩ সালে দিল্লিতে বিশ্ব হকি লিগে চীনকে হারিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচটিকেই নিজের স্মরণীয় ম্যাচের তালিকায় ওপরে রাখেন চয়ন। এমন একজনের বিদায় আজ বিষাদের সুর ছড়িয়েছে জাকার্তার গেরোলা বুং কার্নো হকি মাঠে। 

Print Friendly, PDF & Email