হাত ছাড়াই টেবিল টেনিস!

স্পোর্টস লাইফডেস্ক : যাঁর দুই হাত নেই, তাঁর কিছুই নেই—এমনটা ভাবতে পারেন অনেকেই। কিন্তু দুই হাত না থাকলেও এমন অনেকেই আছেন শরীরের অন্য অঙ্গ দিয়েও দৈনন্দিন জীবনের কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। দুই হাত না থাকার পরও মুখে তুলি ধরে কাগজে ছবি আঁকার উদাহরণ মেলে।

কিন্তু দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও একজন টেবিল টেনিস খেলোয়াড় হয়ে ওঠার উদাহরণটা বোধ হয় তৈরি করেছেন একজনই—মোহাম্মদ হামাদতু। মিসরের দুই হাতবিহীন এই মানুষটি প্যারালিম্পিকের টেবিল টেনিসে অংশ নিয়ে অবাক করে দিয়েছেন সবাইকে।

হামাদতুর এই কাহিনি অধ্যবসায় আর চেষ্টার দুর্দান্ত এক উদাহরণ। মাত্র ১০ বছর বয়সে এক দুর্ঘটনায় দুই হাত হারান তিনি। জীবনের সলতেটাই নিবে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল তাঁর। কিন্তু তিনি তো সম্পূর্ণ অন্য ধাতুতে গড়া। তিনি এমন একটা কাজে নিজেকে পারদর্শী করে তুললেন, যাতে হাতের ব্যবহারটাই আসল।

তিনি সার্ভ করেন পা দিয়ে বল তুলে আর ভলি করেন মুখ দিয়ে। তবে এটি করতে তাঁকে অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হয়। শুরুর দিকে বগলের নিচে টিটি ব্যাট রেখে খেলেছিলেন। পরে দাঁত দিয়ে কামড়ে ব্যাট ধরেই তিনি সফল। সার্ভ করার সুবিধার জন্য তিনি ডান পায়ে জুতো পরেন না। ডান পায়ের বুড়ো আঙুল আর তার পাশের আঙুলটির মাঝখানে বল ধরে তিনি সার্ভিস করেন।

খেলার মধ্য দিয়েই হামাদতুকে বাঁচার প্রেরণা জোগান তাঁর এক আত্মীয়। তাঁকে বলেছিলেন, ‘তোমার দুই হাত হয়তো নেই। কিন্তু দুটো পা তো আছে। তুমি ফুটবল খেলো।’

২০ বছর ধরে হামাদতুর কোচ হোসামেলদিন এলশোবরি। তিনি বলেন, দুর্ঘটনার পরে প্রথম তিন বছর হামাদতু নিজেকে তাঁর বাড়ির চার দেওয়ালের মধ্যে বন্দী করে রেখেছিলেন। খুব মনমরা হয়ে থাকত। ওদের এক পারিবারিক বন্ধু ওকে ফুটবল খেলায় উৎসাহ দিয়েছিল। তবে ফুটবলটা সে খেলতে পারেনি।’
ফুটবলটা কেন চালিয়ে যেতে পারেননি তিনি? হোসামেলদিন বলেন, ‘ফুটবল খেলা ওর জন্য খুবই বিপজ্জনক। যেহেতু দুই হাত নেই, তাই মাটিতে পড়ে যাওয়া থেকে নিজেকে বাঁচানোটা ওর জন্য অসম্ভবই।’

প্যারা অলিম্পিকে অংশ নেওয়াটা ছিল তাঁর স্বপ্ন। সেই স্বপ্নটা তিনি পূরণ করেছেন দারুণভাবেই। তবে ৪৩ বছর বয়সী হামাদতু অভিষেক ম্যাচটা হেরে গেছেন। কিন্তু তাতে কোনো দুঃখ নেই তাঁর, ‘আমি মিসর থেকে এসে প্যারালিম্পিকসের একজন সেরা খেলোয়াড়ের বিপক্ষে খেলতে পেরেই খুশি। আমার হৃদয়ের অনুভূতিটা ঠিক ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না।’

যে খেলোয়াড় জীবনযুদ্ধের লড়াইয়ে জয়ী, তাঁর ক্ষেত্রে প্যারালিম্পিক বা যেকোনো খেলায় জয়-পরাজয় খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়।

Print Friendly, PDF & Email