১৯ বছরেই কিংবদন্তি হয়ে শেষ বাইলসের অলিম্পিক

স্পোর্টস লাইফডেস্ক : আর কখনো অলিম্পিকে অংশ না নিলেও ইতিহাসের পাতায় ঠিকই অমর হয়ে থাকবেন সিমিওনে বাইলস। ২০১৬ রিও অলিম্পিক যে এই শৈল্পিক জিমন্যাস্ট তেমন কীর্তি গড়েই শেষ করলেন। ১৯ বছর বয়সের ৪ ফুট ৯ ইঞ্চি উচ্চতার মার্কিন তারকা বাইলস হলেন কিংবদন্তি। জিমন্যাস্টিক্সের গ্রেট হয়ে গ্রেট অলিম্পিয়ানদের পাশে এখন তার নাম। রিওর একাদশ দিনে এবারের আসরে চতুর্থ সোনা জিতেছেন বাইলস।

অলিম্পিকে এক আসরে চারটি সোনা। অভিষেকেই সেই রেকর্ড স্পর্শ করেছেন বাইলস। শেষ ইভেন্ট ফ্লোরে সোনা জিতেছেন। আগের দিন ব্যালান্স বিমে ভারসাম্য না হারালে ৫টি সোনা হতে পারতো। একমেবাদ্বিতীয়ম হয়ে নতুন রেকর্ড গড়তে পারতেন। অলিম্পিকে এক আসরে ৫ সোনা জয়ের রেকর্ড নেই কোনো জিমন্যাস্টের। তাও তো কম হয়নি। চারটি সোনা। একটি ব্রোঞ্জ।

বাইলসের আগে শতাব্দী প্রাচীন অলিম্পিকের এক আসরে জিমন্যাস্টিক্সে চারটি সোনা জেতার রেকর্ড আছে আর মোটে চারজনের। ১৯৫৬ অলিম্পিকে হাঙ্গেরির জিমন্যাস্ট অ্যাগনেস কেলেতি ও সোভিয়েত ইউনিয়নের জিমন্যাস্ট লারিসা লাতিনিনা প্রথম এই ইতিহাস গড়েন।

এরপর ১৯৬৮ অলিম্পিকে তৃতীয় নারী হিসেবে তা স্পর্শ করেন চেক জিমন্যাস্ট ভেরা কাসলাভস্কা। ১৯৮৪ অলিম্পিকে শেষজন হিসেবে এই ঘটনা ঘটিয়েছেন রুমানিয়ার জিমন্যাস্ট একাতেরিনা জাবো। তাদের এলিট ক্লাবে এখন বাইলস। এই চারজনকে ছাড়িয়ে যেতে পারেননি বিমের পতনের কারণে।

বাইলসের মতো সুখী মানুষ এখন খুঁজে মেলা ভার। কঠিন জীবন পেরিয়ে সাফল্যে ভাসা বাইলস বললেন, “এটা দীর্ঘ যাত্রা ছিল। তবে এর প্রতিটি মুহূর্ত আমি উপভোগ করেছি। নিজের প্রথম অলিম্পিক থেকে চারটি সোনাহসহ পাঁচটি পদক নিয়ে ফেরার পর হতাশ হওয়া চলে না। রোমাঞ্চ শেষ হলো।

এখন একটু দুঃখ দুঃখ লাগছে।”দলগত, অল-অ্যারাউন্ড একক ও ভল্টের পর ফ্লোরে সোনা জিতলেন। আর এই ইভেন্টে স্বদেশী বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ২২ বছরের অ্যালি রাইসমানকে হারিয়েছেন বাইলস। যুক্তরাজ্যের অ্যামি টিঙ্কলার জিতেছেন ব্রোঞ্জ। ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকের সময় বয়স কম ছিল বলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেননি। কিন্তু পরের চার বছর জিমন্যাস্টিক্স বিশ্ব শাসন করেছেন।

রিওর অলিম্পিকে তার সাফল্যে তাকে তুলনা করা হচ্ছে উসাইন বোল্ট, মাইকেল ফেলপসদের সাথে। কিন্তু জমিনেই পা রাখছেন এখনো টিনএজার বাইলস, “আমি উসাইন বোল্টও না, মাইকেল ফেলপসও না। আমি প্রথম সিমিওনে বাইলস।”

Print Friendly, PDF & Email