৭ বছর পর শীর্ষ দশে মাশরাফি

স্পোর্টস লাইফডেস্ক : মাশরাফি বিন মুর্তজা চট্টগ্রাম ছেড়েছেন কাল ভোরেই। বাংলাদেশ দলের ওয়ানডে অভিযান আপাতত শেষ। মাশরাফির এখন ছুটি। অধিনায়ককে পরের ম্যাচটি খেলতে অপেক্ষা করতে হবে প্রায় তিন মাস। আগামী বছর জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ড সফরের আগে আর ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি নেই বাংলাদেশের।
মাশরাফি টেস্ট থেকে দূরে আছেন দীর্ঘ সময়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি টেস্ট দেখবেন দর্শকের চোখেই। ক্রিকেটের বড় দৈর্ঘ্যে না খেলার আক্ষেপটা নিশ্চয়ই তাঁকে তাড়িয়ে বেড়ায়। সেটি আরও বাড়িয়ে দেয় ‘চট্টগ্রাম’ ও ‘ইংল্যান্ড’ নাম দুটি। এই চট্টগ্রামেই ২০০৩ সালে ইংলিশদের বিপক্ষে পেয়েছিলেন ৬০ রানে ৪ উইকেট, যেটি টেস্টে তাঁর সেরা বোলিং হয়ে আছে। পেতে পেতেও ৫ উইকেট না পাওয়ার আক্ষেপ তো আছেই, তাঁর চেয়ে বড় যন্ত্রণার কারণ সেই টেস্টে পাওয়া চোট। যেটি মাশরাফির স্বপ্নকে দিয়েছিল নাড়িয়ে।
চট্টগ্রামে মাশরাফি অবশ্য পেয়েছেনও অনেক। এখানেই তাঁর ওয়ানডে অভিষেক। গত বছর ২০০তম ওয়ানডে উইকেটও এখানে পাওয়া। পরশু চট্টগ্রামেই গড়েছেন নতুন কীর্তি। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি উইকেট (২১৬) এখন তাঁরই। তবে বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি উইকেট মাশরাফি ও সাকিব আল হাসান দুজনেরই (২১৫)! মাশরাফি অবশ্য এশিয়া একাদশের হয়ে দুটি ম্যাচ খেলে পেয়েছেন ১ উইকেট। সেটিই তাঁকে এগিয়ে রাখছে।
পরশু মাঠেই অধিনায়ককে নতুন অর্জনের কথাটা জানিয়েছেন সাকিব। যদিও এটি খুব একটা স্পর্শ করছে না মাশরাফিকে, ‘কিছু অর্জনে তো ভালো লাগেই। তবে খুব উচ্ছ্বসিত বা অনেক ভালো লাগছে তা বলব না। খেলতে গেলে এমন অর্জন হয়। আমার পরে যারা আছে তাদের কাছে এই রেকর্ড খুব বড় কিছু হবে না। এরপর মুস্তাফিজ আছে, তাসকিন যদি আরও ১০-১২ বছর খেলতে পারে রেকর্ডের পর রেকর্ড হবে। এসব ছোটখাটো রেকর্ড আসলে কোনো অর্থ বহন করে না।’
তিনি যা-ই বলুন, বাংলাদেশের পেসারদের পথিকৃতের মুকুটে এই পালকটা যোগ হওয়া উচিতই ছিল। হয়তো বারবার চোটাঘাতে পূর্ণতা পায়নি তাঁর বোলিং সত্তা। ১৪ বছরের ক্যারিয়ারে যদি পুরো ছন্দে খেলতে পারতেন উইকেটসংখ্যা ২১৬ না হয়ে আজ ৩১৬ কিংবা তারও বেশিও হতে পারত। মাশরাফি এসব শুনে শুধুই হাসেন, ‘যা হওয়ার হয়ে গেছে! এসব নিয়ে ভেবে আর কী হবে?’
ক্যারিয়ারের গোধূলিতে নিজেকে আলাদাভাবে চিনিয়েছেন সফল এক নেতা হিসেবে। এই সাফল্যের ভিড়েও কখনো কখনো তাঁর দিকে ধেয়ে গেছে অপ্রিয় এক প্রশ্ন স্ট্রাইক বোলার মাশরাফি কোথায়? সব প্রশ্নের উত্তর নিয়েই হয়তো এসেছিল আফগানিস্তান ও ইংল্যান্ড সিরিজ। দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন সামনে থেকে। আফগানদের বিপক্ষে উইকেট পেয়েছেন ৪টি। তবে তাঁকে খেলতে আফগান ব্যাটসম্যানদের কতটা কষ্ট হয়েছে ইকোনমিতেই পরিষ্কার—৩.৩৮। ইংল্যান্ড সিরিজে ৮ উইকেট নিয়ে তো বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সফলতম। ১২ উইকেট নিয়ে এই বছর তিনিই সবার ওপরে। ২০০৯-এর পর আবারও উঠে এসেছেন আইসিসির ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে সেরা দশ বোলারের তালিকায় ।
যদিও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ হেরে যাওয়ায় ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নিয়ে খুব একটা তৃপ্ত তিনি নন, ‘দল জিতলে সবকিছুই ভালো লাগে। আজ আমরা হেরে যাওয়া দল। জয়ী দলে থাকলে যেমনই পারফরম্যান্স করি ভালো লাগত। সামনে চেষ্টা করব আরও ভালো কিছু করতে।’
মাশরাফির এমন পারফরম্যান্স আফসোস বাড়িয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশের, টেস্টেও যদি তাঁর মতো একজন অভিজ্ঞ পেসার থাকতেন!

Print Friendly, PDF & Email