‘‌গুরু’‌ হিসেবে কাউকেই তুলে ধরতে চান না জকোভিচ!‌

স্পোর্টস লাইফডেস্ক : কেরিয়রের প্রথম ফরাসী ওপেন জেতার পরই কী যে হল!‌ ট্রফি মুঠোয় ভিক্টরি ল্যাপ দেওয়ার অভ্যাসটাই ভুলে মেরে দিলেন!‌ নোভাক জকোভচ সম্পর্কে ইদানীংকালে টেনিস অনুরাগীমহলে চাপা শঙ্কা। কী হল ফ্ল্যাশিং মেডোর সেই স্বপ্নের জয়ের পর?‌ উইম্বলডনে সাত তাড়াতাড়ি বিদায় নেওয়ার পর রিও অলিম্পিকের লড়াই থেকেও শুরুর দিকেই ছিটকে গিয়েছিলেন ‘‌জকো’‌।

এমনকী, বছরের শেষতম গ্রান্ড স্ল্যাম ইউ এস ওপেনেও তেমনভাবে দানা বাঁধেনি সার্বিয়ান পয়লা নম্বর তারকার খেলা। মরশুমের শেষ প্রান্তে এসে জকোভিচকে প্রবলভাবে তাড়া করছেন ব্রিটেনের অ্যান্ডি মারে। আপাতত দুজনেই প্যারিস মাস্টার্স খেলতে ব্যস্ত। বুধবার লুক্সেমবুর্গের জিলেস মুলারকে সরাসরি সেটে ৬-‌৩, ৬-‌৪ হারিয়ে শেষ ষোলোয় পৌঁছে গিয়েছেন জকোভিচ।

তবে, গত একবছর ধরেই যে দৃশ্য দেখতে টেনিস দুনিয়া অভ্যস্থ হযে পড়েছিল সেটা এবার প্যারিসে দেখা যাচ্ছে না। কোর্টে জকোভিচ র‌্যাকেট হাতে নিজেকে মেলে ধরছেন অথচ প্লেয়ার্স বক্সে কোথায় তিনি-‌ বরিস বেকার?‌ না রয়েছেন বেকার , না রয়েছেন মারিয়ান ভাজদা। বুধবার জকোর খেলার সময় কোর্টের পাশে দেখা গেল স্পেনের অখ্যাত খেলোয়াড় ইমাজকে।

তাহলে কী জকোভিচ পাল্টে ফেললেন তাঁর সাপোর্ট স্টাফদের?‌ এমন একটা প্রশ্ন উঠে পড়েছে স্বভাবতই। তার পাশাপাশিই স্পেনীয় ইমাজকে সার্বিয়ানের ম্যাচ চলার সময় কোর্টের পাশে দেখা যাওয়ায় ঘনিয়েছে আরেকটা জল্পনা। তাহলে কী ইদানীং জকোভিচ আধ্যাত্ম নির্ভর হয়ে পড়লেন? এর কারনও অবশ্য রয়েছে।

স্পেনের মারবেল্লায় একসময় এ টি পি সার্কিটে প্রথম দু্শোয় থাকা ইমাজ যে টেনিস অ্যাকাডেমি গড়ে তুলেছেন তাতে শিক্ষার্থীদের ভালো থাকা, অনুভূতি ও আবেগের ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়। এজন্যই ইমাজ সম্পর্কে সার্কিটে একটা অন্যরকম ধারনা চালু হয়েছে। এহেন ইমাজ জকোর সঙ্গে জুড়ে গেলেন মানে বিশ্বের পয়লা নম্বর তারকাও আধ্যাত্মবাদের প্রতি আকৃষ্ট এমন দুয়ে দুয়ে চার মার্কা একটা ধারনা টেনিস জনমানসে চালু হয়ে গিয়েছে। যদিও জকো নিজে প্রসঙ্গটা ফুৎকারে উড়িয়ে দিচ্ছেন। সঙ্গে যোগ করেছেন, ‘‌আমি জানি না আপনারা কার থেকে খবরটা জেনেছেন।

ইমাজ ‘‌গুরু’‌ হতে যাবে কেন? ও অনেকদিন থেকেই আমার টিমে নিয়মিত রয়েছে। আমার ভাই মার্কোর সঙ্গেও একসময় কাজ করেছে। ইমাজ বরাবর টেনিস নিয়েই রয়েছে। আমি খুব খুশি। ও আমার সঙ্গে আবার কাজ করতে পারছে। এর বেশি একটা কথাও বলব না। কারন আধ্যাত্মিক গুরু বা এইজাতীয় বিষয় নিয়ে যা রটছে তার কোনও ভিত্তি নেই।’‌ দৃশ্যতই বিরক্ত দেখিয়েছে জকোভিচকে এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে।  ‌  ‌      ‌‌

Print Friendly, PDF & Email